একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি

রায়গঞ্জ : বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হলেন উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি রন্তু দাস। শনিবার তাঁকে গ্রেফতার করে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ । ধৃত রন্তু দাসের বাড়ি রায়গঞ্জ শহরের মিলনপাড়া এলাকায় এবং তিনি স্থানীয় একটি ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবেও পরিচিত। পুলিশের এই পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়গঞ্জ শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিবাটি সংলগ্ন এলাকায় কয়েক বিঘা জমি বেআইনিভাবে দখল করে তা বিক্রি করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয় করার অভিযোগ রয়েছে রন্তুর বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি শহরের একাধিক বাসিন্দাকে ভয় দেখিয়ে বাড়ি ও সম্পত্তি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তাঁর নামে। পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ধৃত যুব নেতার কাছে একাধিক অত্যাধুনিক বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রও মজুত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় একাধিক অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও শাসকদলের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী এবং তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়া লাল আগরওয়ালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। এমনকি তৎকালীন পুলিশ আইসি বিশ্বশ্রয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকায়, ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ জানাতে এলে উল্টে তাঁদেরই হেনস্থা করা হতো বলে অভিযোগ। বর্তমানে অভিযুক্তকে রায়গঞ্জ থানায় রাখা হয়েছে। জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানান, “ধৃতকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বিশেষ করে তার কাছে কোনও অবৈধ ও অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এই গ্রেফতারির পর তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “২০১৭ সাল থেকে উত্তর দিনাজপুর জেলার একাধিক তৃণমূল নেতা দুষ্কৃতিমূলক কার্যকলাপ, মানুষের জমি দখল, সরকারি টাকা তছরুপ এবং পথশ্রী প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। একাধিক জলাশয় ভরাট করে বহুতল নির্মাণ হয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের বিজেপি জেলা সভাপতি আমাকে সমস্ত বিষয় জানিয়েছেন। অবিলম্বে এই সমস্ত তৃণমূল নেতা ও পদাধিকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − 3 =