কলকাতা : গোটা দেশ সহ রাজ্যে পালিত হচ্ছে বকরি ঈদ। আর বৃহস্পতিবার কলকাতার বকরি ঈদের সকালটা ছিল এ বার একদমই অন্য রকম। কয়েক দশকের সেই রেড রোড বন্ধ করে যে নামাজের দৃশ্য শহরের অভ্যাস হয়ে উঠেছিল, সেই চেনা দৃশ্য আজকে ছিল না। বরং তার জায়গায় এ বার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ পালিত হল নিশ্চিন্তে ঈদের নামাজ আদায় পর্ব। এখানেই শেষ নয়, বৃহস্পতিবার কল্লোলিনী কলকাতা দেখল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। ঈদে ব্রিগেডের মাঠের মাথায় উড়ছে জাতীয় পতাকা, তথাকথিত ধর্মীয় নিশানের স্থানে। আর সেই ছবিটাই হয়ে উঠল বদলে যাওয়া রাজনীতির সবচেয়ে জোরালো ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
এই দিন ভোরের আলো ফোটার আগেই ব্রিগেড চত্বরে জমতে শুরু করেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে ব্রিগেড চত্বরের চারদিকে রাখা হয়েছিল কড়া পাহারা, আকাশ পথেও চলেছে ড্রোন ক্যামেরার নজরদারি। পাশাপাশি মাঠের বিভিন্ন অংশে উঁচু মঞ্চ থেকেও চলেছে পুলিশের নজরদারি। এত আঁটোসাট নিরাপত্তার মধ্যেও কোথাও উৎসবের আমেজে কোনও খামতি ছিল না। ঘড়ির কাঁটায় নির্দিষ্ট সময়েই শুরু হল ধর্মীয় রীতি মেনে নামাজের আচার। নামাজে অংশ নেওয়া নামাজীদের বক্তৃব্য রেড রোড থেকে ব্রিগেডের মাঠে হলেও ইবাদতের টান এতটুকু কমেনি।
জিডিও এই পরিবর্তনের শেকড় খুঁজলে ফিরে যেতে হয় সত্তরের দশকের শেষে। প্রবল বর্ষায় শহীদ মিনার চত্বর জলে ডুবে গেলে তখন বিকল্প হিসেবে উঠে আসে রেড রোড। তারপর থেকে সেটাই ঈদের নামাজের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে যায়। এরপর সময়ের স্রোতে শহরের জনসংখ্যার চাপ যেমন বেড়েছে, তেমনই রাজনীতির ভাষাও বদলেছে। রাজ্যে নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট, রাজ্যে সমস্ত ধর্মীয় আচার অবশ্যই সম্মানের সঙ্গে চলবে, তবে তার জন্য নগরজীবন থেমে থাকবে না।
সেই কারণেই রেড রোড থেকে এবারে ব্রিগেডের ময়দানে চলেছে আসা। যাতে উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার বাঁধন সহ ধর্মীয় আচারের সন্মান যাতে শক্তভাবে বজায় থাকে, পাশাপাশি শহরে যান চলাচলে কোনও বিঘ্ন না তৈরী হয়, এই দুয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাই এই নতুন রাজ্য সরকারের বার্তা। একদিকে নিজ ধর্ম পালনের অধিকার থাকবে, তবে তা জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দকে বিঘ্নিত করবে না। তাই ঈদের দিনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছবি হয়তো নামাজের সারি নয়, ব্রিগেডের মাথায় উড়তে থাকা তেরঙা জাতীয় পতাকা। যা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে বদলাচ্ছে কল্লোলিনী কলকাতা, আর এই বদলের ছাপ বুকে নিয়ে ইতিহাস গড়ল এবাররের ইদের ময়দানও।

