শ্রীলঙ্কার মাটিতে ভারতের টেস্ট জয়ের পথ এখন অনেকটাই প্রশস্ত। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ম্যাচের রাশ সম্পূর্ণভাবে শুভমান গিলের দলের হাতে। শেষ দিনে বৃষ্টি বড় বাধা হয়ে না দাঁড়ালে ভারতকে জয় থেকে আটকানো শ্রীলঙ্কার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে। ৩৭২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্বাগতিকরা দিনের শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে তুলেছে মাত্র ৮৪ রান। ফলে এখনও তাদের প্রয়োজন ২৮৮ রান, আর ভারতের দরকার মাত্র ৬টি উইকেট।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভারত নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রথম ইনিংসে ৪৬২ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে সফরকারীরা শক্ত ভিত তৈরি করে। জবাবে শ্রীলঙ্কার ইনিংস থেমে যায় ২৮৪ রানে। ফলে ভারত ১৭৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড নেয়। যদিও তৃতীয় দিনের শেষভাগে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই লিড আরও বাড়ানোর সুযোগ তখনই মেলেনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের ব্যাটিং খুব বেশি সফল হয়নি। পুরো দল ১৯৩ রানেই অলআউট হয়ে যায়। তবে এই ইনিংসে আবারও নজর কাড়েন ঋষভ পন্থ। মাত্র ৬৯ বলে ৬৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে তিনি দলের স্কোরকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেন। নিজের স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে একাধিক আকর্ষণীয় শট খেলেন তিনি। একই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে কম ইনিংসে ১০০টি ছক্কা হাঁকানোর অনন্য রেকর্ডও গড়ে ফেলেন।
পন্থ ছাড়া দেবদত্ত পাড়িক্কল ৪৪ এবং কেএল রাহুল ৩৫ রান করে কিছুটা লড়াই করেন। কিন্তু ভারতের শীর্ষ ও মধ্যক্রমের বেশ কয়েকজন ব্যাটার হতাশ করেন। যশস্বী জয়সওয়াল শূন্য রানে ফেরেন, শুভমান গিল করেন মাত্র ৮ রান এবং ধ্রুব জুরেলের ব্যাট থেকেও আসে মাত্র ৭ রান। শেষদিকে অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা ও মানব সুথারও বড় অবদান রাখতে পারেননি। দুইজনই ৯ রানের বেশি করতে ব্যর্থ হন। ফলে ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস দ্রুত শেষ হয়ে যায়। শ্রীলঙ্কার হয়ে অসিথা ফার্নান্দো ৪টি এবং প্রভাত জয়সূর্য ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে বোলিং বিভাগে সাফল্য পান।
৩৭২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ভারতের স্পিন আক্রমণের সামনে স্বাগতিক ব্যাটাররা স্বচ্ছন্দে খেলতেই পারেননি। ঘূর্ণি সহায়ক উইকেটে জাদেজা, মানব সুথার ও কুলদীপ যাদব ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। ফলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। যদিও অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডি সিলভা ৩১ রান এবং সোনাল দিনুশা ২৫ রানে অপরাজিত থেকে শেষ দিনের জন্য কিছুটা আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে শতরান করা দিনুশার ওপরই এখন শ্রীলঙ্কার ভরসা সবচেয়ে বেশি।
তবে ম্যাচে বিতর্কও কম হয়নি। মানব সুথারের বলে লাহিরু উদারার ক্যাচ নেন ধ্রুব জুরেল। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি মাটিতে স্পর্শ করেছিল কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। একাধিকবার ভিডিও দেখেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি। অনেকের দাবি, ক্যাচটি পরিষ্কার ছিল না এবং বল মাটি ছুঁয়েছিল। তবুও তৃতীয় আম্পায়ার শেষ পর্যন্ত ব্যাটারকে আউট ঘোষণা করেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্রিকেট মহলে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন ভারতের হাতেই। শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য যেমন কঠিন, তেমনি ভারতের স্পিন আক্রমণও শেষ দিনে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। তাই আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পঞ্চম দিনের শুরুতেই ভারত দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিয়ে সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেবে এমনটাই প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমীদের।

