দরজা খুললো বিধানসভার নিজস্ব সংগ্রহশালার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

বাংলার গৌরবময় ইতিহাস, স্বাধীনতার আন্দোলন থেকে নবজাগরণ। শিল্প,সংস্কৃতি থেকে রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাসের অসামান্য রত্নভাণ্ডার নিয়ে দরজা খুলে দিল বিধানসভার নিজস্ব সংগ্রহশালা। সোমবার  বিধানসভার প্লাটিনাম জয়ন্তী স্মারক ভবনের বেসমেন্টে ওই সংগ্রহশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুসজ্জিতভাবে এই  সংগ্রহশালায় সবই তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার মণীষীদের জীবনী যেমন স্থান পেয়েছে তেমনি স্থান পেয়েছে রাজ্যের সব কটি সাধারণ নির্বাচনের ইতিহাস।

নেতাজি, গান্ধিজির পাশাপাশি বিধানচন্দ্র রায়ের মোমের মূর্তিও স্থান পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিধানসভা নির্বাচন ১৯৫২ সাল থেকে সর্বশেষ ২০২১ সালের সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক উত্থানপতনের বিস্তারিত বিবরণ থাকছে।  রয়েছে স্বাধীনতার আগে ও স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সরকার গঠনের যাবতীয় তথ্য। সংগ্রহশালায় ‘রাজ্যের অভিভাবক’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী রয়েছে। তাতে এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল, বিধানসভার স্পিকারদের ছবি ও কর্মজীবন সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত ক্রমতালিকা থাকছে। ভারতীয় সংবিধানকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সংগ্রহশালায়। রাজ্য বিধানসভার ইতিহাসে  বিধানসভা গঠন এবং এখানে ইতিহাসিক যেসমস্ত আইন প্রণয়ন হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্যও তারিখ-সহ লিপিবদ্ধ থাকছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীদের ছবি রয়েছে একটি কোলাজে। তাতে প্রাক্তন-বর্তমান সব মুখ্যমন্ত্রী ও দলীয় পতাকার ছবি রয়েছে এক ফ্রেমে। তাতে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবি যেমন রয়েছে, তেমনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ নেওয়ার ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মূর্তিগুলো অসাধারণ। এরকম মূর্তি ওয়াক্স মিউজিয়াম এও করো। ববিকে বলেছি। যেখানে খামতি আছে পূরণ করে নাও।’ বাবা সাহেব আম্বেদকর, রবি ঠাকুর,কাজী নজরুলের মূর্তিও সংগ্রহশালায় বসাতে তিনি অধ্যক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন।  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই সংগ্রহশালা পড়াশোনা ও গবেষণায় কাজে লাগবে। হাতের মুঠোয় রাজ্যের সামগ্রিক ইতিহাসকে পাওয়া যাবে।

৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নতুন স্মারক ভবন পেয়েছে রাজ্য বিধানসভা। গত বছরই মুখ্যমন্ত্রী ওই ভবনের দ্বারোদ্ঘাটন করেছেন। সেখানেই গড়ে উঠেছে এই সংগ্রহশালা। সংগ্রহ শালা ছাড়াও নবনির্মিত  প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী স্মারক ভবনে ৪৫০ আসনের ২টি অডিটোরিয়াম, কনফারেন্স হল, মিটিং রুম রয়েছে।  এই ভবনটি তৈরি করতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *