একটা স্বপ্ন ছিল। অনেক দিনের স্বপ্ন। বারবার কাছে গিয়েও পূরণ হচ্ছিল না। কখনও চোট বাধা হয়েছে। কখনও শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতা। কিন্তু মীরাবাই চানু হাল ছাড়েননি। বুধবার নাগোয়ায় অবশেষে সেই অপেক্ষার শেষ হল। এশিয়ান গেমসে রুপো জিতলেন ভারতের তারকা ভারোত্তোলক।
মহিলাদের ৪৯ কেজি বিভাগে মীরাবাই মোট ১৯৮ কেজি ওজন তুলেছেন। ছিন স্ন্যাচে ৮৭ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১১ কেজি তুলে দ্বিতীয় হন তিনি। উত্তর কোরিয়ার রি সং-গুম ২১০ কেজি তুলে সোনা জিতেছেন। ব্রোঞ্জ গিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার লুলুক দিয়ানি ত্রি উইজায়ানার হাতে। তাঁর মোট ওজন ছিল ১৯১ কেজি।
পদক জেতার পর মীরাবাইয়ের চোখে ছিল আনন্দের জল। এত দিন ধরে যে মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলেন, সেটি সত্যি হওয়ার পর আবেগ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ভারোত্তোলনে পা রাখার সময় থেকেই এশিয়ান গেমসের পদক তাঁর স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হয়েছে।
মীরাবাইয়ের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াই। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে চোটের কারণে নামতে পারেননি তিনি। ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়াডে অবশ্য সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও পদক এল না। চতুর্থ হয়ে শেষ করেছিলেন প্রতিযোগিতা। উরুর চোট তাঁর ক্লিন অ্যান্ড জার্কের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল।
এবার তাই নাগোয়ায় নামার আগে লক্ষ্য ছিল পরিষ্কার। নিজের সেরাটা দেওয়া। শেষ পর্যন্ত রুপো নিয়ে ফিরলেন তিনি। এই পদকের মাধ্যমে অলিম্পিক্স, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, কমনওয়েলথ গেমস এবং এশিয়ান গেমস— চারটি বড় মঞ্চেই পদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করলেন মীরাবাই।
তাঁর রুপো ভারতীয় ভারোত্তোলনের জন্যও ঐতিহাসিক। ১৯৯৮ সালে ব্যাঙ্কক এশিয়ান গেমসে রুপো জিতেছিলেন কর্ণম মালেশ্বরী। তার পর কেটে গিয়েছে ২৮ বছর। এত দিনে আর কোনও ভারতীয় ভারোত্তোলক এশিয়ান গেমসে পদক জিততে পারেননি। মীরাবাই সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন।
পদক জয়ের পর নিজের আর একটি ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সরকারের কাছে অর্জুন পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছেন মীরাবাই। এই সম্মান এখনও তাঁর পাওয়া হয়নি। নিজের কৃতিত্ব বিবেচনা করে সরকার যেন তাঁকে এই পুরস্কার দেয়, সেই অনুরোধ করেছেন তিনি।
নাগোয়ায় পাওয়া এই রুপো তাই মীরাবাইয়ের কাছে শুধু একটি পদক নয়। এটি তাঁর বহু বছরের স্বপ্নপূরণ। চোট, হতাশা আর অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমসের মঞ্চে হাসলেন ভারতের তারকা ভারোত্তোলক।

