ফাইনালের দরজা খুলল না ভারতের সামনে। এশিয়ান গেমসের পুরুষদের দলগত ব্যাডমিন্টনের সেমিফাইনালে চিনের কাছে ১-৩ ব্যবধানে হারল ভারত। ফলে ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল ভারতীয় দলকে। তবে লড়াই ছিল জমজমাট। বিশেষ করে সাত্ত্বিকসাইরাজ রাঙ্কিরেড্ডি ও চিরাগ শেট্টির জয় ভারতীয় শিবিরে এক সময় আশার আলো দেখিয়েছিল।
ম্যাচের শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়েন লক্ষ্য সেন। চিনের শি ইউকির বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই লম্বা র্যা লিতে খেলতে হয় তাঁকে। লক্ষ্ম্য বারবার আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শি ইউকি বেশি স্থির থাকেন। ১৬-২১৬, ১৮-২১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে চিনকে এগিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের সামনে ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জুটি। সাত্ত্বিক ও চিরাগের প্রতিপক্ষ লিয়াং ওয়েইকেং ও ওয়াং চ্যাং। শুরু থেকেই ভারতীয় জুটির খেলা ছিল দ্রুত এবং আক্রমণাত্মক। চিরাগ নেটের সামনে থেকে চাপ তৈরি করেন। পিছন থেকে একের পর এক জোরালো স্ম্যাশ করেন সাত্ত্বিক। প্রথম গেমে ২১-১১ ব্যবধানে সহজেই এগিয়ে যায় ভারত। দ্বিতীয় গেমে লড়াই জমে ওঠে। চিনা জুটি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। স্কোর হয় ২০-২০। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় পরপর পয়েন্ট নিয়ে ২২-২০ ব্যবধানে জিতে যান সাত্ত্বিক ও চিরাগ। ভারত ম্যাচে সমতা ফেরায়।
তৃতীয় ম্যাচে নামেন আয়ুষ শেট্টি। তাঁর প্রতিপক্ষ লি শি ফেং। প্রথম খেলায় আয়ুষ শুরুতে ভাল খেলেন। তাঁর আক্রমণাত্মক শট চিনা শাটলারকে চাপে ফেলে। কিন্তু শেষ দিকে লি নিজের ছন্দ ফিরে পান। ২১-১৯ ব্যবধানে প্রথম খেলাটি জেতেন তিনি। দ্বিতীয় গেমে আরও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২১-১৩ ব্যবধানে জিতে চিনকে ২-১ এগিয়ে দেন।
চতুর্থ ম্যাচে ভারতকে জিততেই হত। হরিহরণ আমসাকরণ ও এমআর অর্জুন সেই লড়াইয়ে নামেন। প্রথম গেমে ১৬-২১ হারের পর দ্বিতীয় গেমে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন তাঁরা। ১৭-২১ ব্যবধানে জিতে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ান ভারতীয়রা। কিন্তু শেষ গেমে আর পেরে ওঠেননি হরিহরণ ও অর্জুন। চিনের জুটি শুরু থেকেই নেটের সামনে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ভারতীয়দের ভুলের সুযোগও কাজে লাগায়। ২১-৯ ব্যবধানে তৃতীয় খেলাটি জিতে নেয় চিন। শেষ হয় ভারতের ফাইনালে ওঠার আশা।
এর আগে জাপানকে হারিয়ে পদক নিশ্চিত করেছিল ভারত। এবার ব্রোঞ্জ নিয়েই ফিরতে হল। ২০২৩ সালে রুপো জেতার পর এ বারও পুরুষদের দলগত ব্যাডমিন্টনে ভারতের পদক এল।

