এ যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি! জর্ডনের ক্লাব আল হুসেনের বিরুদ্ধে দু’গোলে এগিয়ে থেকেও জয় অধরা থেকে গিয়েছিল। ড্র করে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে। ভেবেছিল, যুবভারতীর চেনা পরিবেশে সমর্থকদের সামনে সেই ভুল আর হবে না। কিন্তু কোথায় কী! এ বার ইরাকের আল শোর্তার বিরুদ্ধে দু’বার এগিয়েও শেষরক্ষা হল না। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ২ মিনিটের ব্যবধানে দু’গোল হজম করে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ২-৩ গোলে হারল লাল-হলুদ। আক্রমণে ঝলক থাকলেও রক্ষণের দুর্বলতা, গোলের সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতা এবং প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ সামলাতে না পারার পুরনো রোগই ডোবাল আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দলকে।
মঙ্গলবার যুবভারতীতে শুরুটা অবশ্য স্বপ্নের মতো হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের। ম্যাচের ৭ মিনিটে হার্দিক ভাট ও দানি রামিরেজের যুগলবন্দিতে ডান দিক দিয়ে আক্রমণ তৈরি হয়। হার্দিকের ক্রস বক্সের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জোরাল শটে গোল করেন ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গা হামার। কিন্তু সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৪ মিনিটে ডান দিক থেকে বাড়ানো ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করে আল শোর্তাকে সমতায় ফেরান ডিফেন্ডার আহমেদ ইয়াহিয়া। ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ বলের গতিপথ বুঝতে না পারায় বিপদ বাড়ে।
এর পরেও আক্রমণে উঠে সুযোগ তৈরি করে লাল-হলুদ। ২১ মিনিটে দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করেন লালচুংনুঙ্গা। তাঁর জোরালো শট কোনও রকমে আটকে দেন আল শরতার গোলরক্ষক জালাল হাসান। ৪১ মিনিটে ফের এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। দানি রামিরেজের ফ্রি-কিক গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বলে বাসিম রশিদের পাস থেকে ফাঁকা জালে বল ঠেলে দেন ডেভিড। প্রথমার্ধে জোড়া গোল করে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি।
কিন্তু ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল। ৪৩ মিনিটে রামিরেজের পাস থেকে ডেভিডের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। ৪৫ মিনিটে হার্দিক ভাটের নিচু ক্রস থেকেও গোল করতে পারেননি তিনি। বিরতির ঠিক আগে বাসিমের পাসে আবার সুযোগ এসেছিল ডেভিডের সামনে। এ বার তাঁর শট আটকে দেন গোলরক্ষক। প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়াতে পারলে ম্যাচের ছবিটা অন্য রকম হতে পারত।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য সম্পূর্ণ বদলে যায় পরিস্থিতি। ৫১ মিনিটে বাঁ দিক থেকে আল শোর্তার নিচু ক্রস ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণকে ভেদ করে পৌঁছয় হুসেন আলির কাছে। তিনি সহজেই বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান। তার মাত্র ২ মিনিট পরেই কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দুরন্ত হেডে গোল করেন কিংসলে কুকু।
৬৫ মিনিটে দানি রামিরেজের শট আটকে যায়। এডমুন্ড লালরিন্দিকার প্রচেষ্টাও রুখে দেন গোলরক্ষক। ফিরতি বল থেকে ডেভিডের চেষ্টাও সফল হয়নি। ৭৭ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আল শোর্তার আবদুল মুমুনি। ফলে শেষ দিকে একজন বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। তবু সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। শেষ মুহূর্তে বাসিম রশিদের জোরালো হেড দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচান জালাল হাসান। উল্টে ৮৯ মিনিটে আল শোর্তার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত ২-৩ গোলেই হারতে হয় লাল-হলুদকে। জর্ডনের ক্লাবের বিরুদ্ধে ড্রয়ের পর ঘরের মাঠে এই হার স্পষ্ট করে দিল, ইস্টবেঙ্গলের সমস্যা শুধু গোলের সুযোগ নষ্ট করা নয়, রক্ষণ সামলানোর ক্ষেত্রেও বড়সড় ঘাটতি রয়েছে।

