তৃণমূল ছাড়লেন সুখেন্দুশেখর, দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা

নয়াদিল্লি : উপর্যুপরি ভাঙনে টালমাটাল অবস্থা তৃণমূল কংগ্রেসে। এবার তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। সাংসদ পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। সোমবার সকালে দিল্লি থেকে দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন সুখেন্দুশেখর। সেই সঙ্গে আরজি করের ধর্ষণ-খুনের ঘটনা এবং দুর্নীতি নিয়ে দলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন।

সুখেন্দু এক প্রেস বিবৃতিতে বলেন, “ব্যাপক লাগামহীন দুর্নীতি, নারীদের ওপর অত্যাচার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, আইন-শৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি ক্ষেত্রে শোচনীয় ব্যর্থতার কারণে সৃষ্ট তৃণমূলের ১৫ বছরের নৈরাজ্যকর শাসনের অবসান ঘটাতে রাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জনগণ বিজেপি-র পক্ষে বিপুল জনরায় দিয়েছেন। জনগণের এই ঐতিহাসিক রায়কে সম্মানের সঙ্গে মেনে নিয়ে আমি পদত্যাগ করেছি।”

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুখেন্দু বলেন, “ক্ষমতা তাদের (টিএমসি) মাথায় এমনভাবে চড়ে গিয়েছিল যে তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, পৃথিবীতে কেউ তাদের ছুঁতে পারবে না। তিনি বলেন, “বাংলার ইতিহাসে এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ভোটার উপস্থিতি সর্বকালের রেকর্ড ৯৭ বা ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কোনও বিশ্লেষণ করা হয়নি। গত পনেরো বছর ধরে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, মন্ত্রী, পঞ্চায়েত নেতা, কাউন্সিলর, মেয়র ইত্যাদি, তারা নাগালের বাইরে চলে গেলেন। তাদের কাছে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তারা বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। আমাদের দলের যে কর্মীরা নিজেদের রক্ত-ঘাম দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করেছিলেন, যারা বছরের পর বছর বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তাদের কোণঠাসা করা হয়েছিল। পরিবর্তে, দালাল, চোর, ডাকাত এবং ধর্ষকরা সামনে চলে আসে। এই সবকিছু এখন প্রকাশ্যে আসছে এবং টেলিভিশনে দেখানো হচ্ছে। গ্রামের সবচেয়ে বড় বাড়ি কার? পঞ্চায়েত নেতার।

সেখানে সুইমিং পুল, বিদেশি পাখি ইত্যাদি রয়েছে। কোটি কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। আমি এখন একজন সাধারণ নাগরিক, এবং আমি নতুন সরকারের কাছে দাবি করতে পারি, তারা যেন গত পাঁচ বছরে বাংলার প্রতিটি হাসপাতালের করা কেনাকাটা তদন্ত করে। একটি ফরেনসিক নিরীক্ষা পরিচালনা করা উচিত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − 13 =