◆ চেতলার রাজনীতিতে বাড়ছে অনির্বাণের প্রভাব
কলকাতা : চেতলার রাজনীতিতে একসময় তিনি ছিলেন ফিরহাদ হাকিমের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মুখ। এলাকার সংগঠন গড়ে তোলা থেকে কর্মীদের সক্রিয় করা, সবক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।
অথচ সময়ের চাকা ঘুরতেই সেই অনির্বাণ চ্যাটার্জিই এখন বিজেপির হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম আলোচিত মুখ। বাংলায় বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের দিন ব্রিগেডের জনসমুদ্রে তাই আলাদা করে নজর কেড়েছে অনির্বাণের উপস্থিতি।
শনিবার শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে চেতলা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার সমর্থককে নিয়ে মিছিল করে ব্রিগেডে পৌঁছন তিনি। গেরুয়া পতাকা হাতে তাঁর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দক্ষিণ কলকাতার রাজনীতিতে অনির্বাণ এখন আলাদা এক ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন। অনির্বাণের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরেই।
চেতলায় দলীয় সংগঠন মজবুত করতে ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত ভরসার মুখ ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দলের অন্দরের কাজের ধরন ও দুর্নীতি নিয়ে তাঁর ক্ষোভ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন অনির্বাণ। তাঁর অভিযোগ, দল ছাড়ার পর থেকেই শুরু হয় লাগাতার চাপ ও হেনস্থা। ভয় দেখানো, মিথ্যা মামলা, এমনকি বাড়িতে হামলার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
অনির্বাণের দাবি, তাঁর বাবার মৃত্শিল্পের ঘরও ভাঙচুর করা হয়েছিল। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
পরবর্তীতে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন অনির্বাণ চ্যাটার্জি। তারপর থেকেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে দেখা যায় তাঁকে। একসময় তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সেই সময় থেকেই তৃণমূল সরকারের পতন না দেখে থামবেন না বলে শপথ নিয়েছিলেন অনির্বাণ।
এবারের নির্বাচনে চেতলা ও আশপাশের এলাকায় তৃণমূলের খারাপ ফল নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ফিরহাদ হাকিমের নিজের ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়াকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সংগঠন মজবুত করতে অনির্বাণের ভূমিকা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চেতলার রাজনীতিতে এখন তাই নতুন সমীকরণ, আর সেই সমীকরণের কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটাই নাম, অনির্বাণ চ্যাটার্জি।

