মুকুটমনিপুরে বসল সিধু-কানুর মূর্তি, সরানো হল বিশ্ব বাংলা গ্লোব

বাঁকুড়া : মুকুটমনিপুর পর্যটন কেন্দ্রের সামনে বসানো হল ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই মহানায়ক সিধু ও কানুর পূর্ণাবয়ব মূর্তি। এতদিন যেখানে হরিণের পিঠে বিশ্ব বাংলার গ্লোব ছিল, তা সরিয়ে সেখানে এই মূর্তি স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে। রাজ্যস্তরের হুল দিবস উদ্‌যাপনের সূচনা উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মূর্তির আবরণ উন্মোচন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

মুকুটমনিপুর সংলগ্ন একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়ের মাঠে রাজ্যস্তরের হুল দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে মঞ্চ নির্মাণ-সহ যাবতীয় প্রস্তুতির কাজও জোরকদমে চলছে। আদিবাসী অধ্যুষিত জঙ্গলমহলের রাণীবাঁধের মুকুটমনিপুরে সিধু-কানুর মূর্তি স্থাপনকে ঘিরে এলাকায় উৎসাহের আবহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা অমলা মুর্মু, পাতামনি হাঁসদা ও ললিতা হেমব্রমের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাণীবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডুকে আদিবাসী উন্নয়ন ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ, সংখ্যালঘু কল্যাণ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী করেছেন। এবার মুকুটমনিপুরে রাজ্যস্তরের হুল দিবস উদ্‌যাপন এবং সিধু-কানুর মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত আদিবাসী সমাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ারই নিদর্শন বলে তাঁদের মত। তাঁদের কথায়, “এতদিন পরে মুকুটমনিপুরকে সত্যিই নিজেদের বলে মনে হচ্ছে।”

অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, রাইপুরের বিধায়ক ক্ষেত্রমোহন হাঁসদা, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিক, খাতড়ার মহকুমাশাসক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, রাণীবাঁধের বিডিও এবং পুলিশ আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানস্থল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যান চলাচল ও পার্কিং-সহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রশাসনের অনুমান, অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগম হবে।

সূত্রের খবর, অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা জানাতে পারেন। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন জঙ্গলমহলের শিল্পীরা। তাঁদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জঙ্গলমহলের ঐতিহ্যবাহী ধামসা-মাদল, লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চার আরও প্রসার ঘটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × two =