মিলন প্রধানের জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার, নন্দীগ্রামে আটক দুই কংগ্রেস নেতা

কলকাতা : নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে কলকাতা হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতে হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানান এবং মামলাটির জরুরি শুনানির আর্জি জানান। তাঁর যুক্তি ছিল, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খুনের মতো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ফলে একজন সাধারণ নাগরিকের মতো তাঁর ওপরও আইনানুগ প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হওয়া উচিত; কেবল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অজুহাতে তাঁকে কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া যেতে পারে না। তবে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কার্যসূচীতে ইতিমধ্যেই বহু মামলা তালিকাভুক্ত রয়েছে, তাই রাজ্য সরকারের এই আবেদনের ওপর আগামী সোমবারে শুনানি হবে।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের আশঙ্কা কংগ্রেস শিবিরের আগেই ছিল। সেই মোতাবেক আইনি সুরক্ষাকবচ মজবুত করতে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান বুধবারই সুপ্রিম কোর্টে চারটি মামলায় একটি ‘ক্যাভিয়েট’ দাখিল করেন। এই ক্যাভিয়েটের অর্থ হলো, শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারের একতরফা যুক্তি শুনে কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করতে পারবে না। জামিন বাতিলের আবেদনের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আদালতকে অবশ্যই কংগ্রেস প্রার্থীর বক্তব্য শুনতে হবে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মিলন প্রধানকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে তিন সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ছয়টি মামলাতেই স্বস্তি দিয়ে আদালত শর্ত দিয়েছিল যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া মাত্রই তাঁকে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা এবং রাত সাড়ে নয়টায় সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী আধিকারিককে (আইও) ফোন করে নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের ভূমি উচ্ছেদ বিরোধী আন্দোলনের সময়কালীন একটি পুরোনো খুনের মামলা সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

আইনি এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বুধবার সকালে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়ে যায়, যখন স্থানীয় পুলিশ কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতাকে হেফাজতে নেয়। মিলন প্রধানের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার চালাতে আসা বিশিষ্ট সমাজসেবী মানিক ফকির এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ সুকৃতি রঞ্জনকে নন্দীগ্রামের একটি গেস্ট হাউস থেকে পুলিশ আটক করে। এই দুই প্রভাবশালী নেতাকে হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও কোন নির্দিষ্ট মামলায় বা কি কারণে তাঁদের আটক করা হয়েছে, তা পুলিশের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি।

পুলিশের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মানিক ফকির অভিযোগ করেন, নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষ বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধী শিবিরের প্রচার রুখতে চাইছেন। তিনি স্থানীয় ভোটারদের কোনো প্রলোভন বা ভয়ের কাছে মাথা নত না করে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। অন্যদিকে, সুকৃতি রঞ্জনও বিজেপিকে নিশানা করে দাবি করেন, তাঁদের জনগণের কাছে যাওয়া আটকাতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই তাঁদের হোটেলের বাইরে পুলিশ ভ্যান মোতায়েন রাখা হয়েছিল এবং বুধবার সকালে প্রচারের উদ্দেশ্যে বের হতেই তাঁদের আটক করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + fifteen =