বিশ্বকাপের ফাইনালে একপেশে লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল স্পেন। নিউ জার্সির ফাইনালে স্পেনের আধিপত্য ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। অন্যদিকে, গোটা ম্যাচে নিজেদের সেরার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
টানা ২ বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে দিল স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল। ১২০ মিনিটে স্পেনের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে এমন পরিসংখ্যান তাদের হতাশাজনক পারফরম্যান্সেরই প্রমাণ।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় সংযুক্তি সময়ের ১০৬ মিনিটে। নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত ক্রস থেকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে স্পেনকে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস। সেই গোলের পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্পেন শিবিরে শুরু হয় উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ।
বিশ্ব ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসির কাছে এই ফাইনাল ছিল বিশেষ গুরুত্বের। ম্যাচের আগে অবসরের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হল না তাঁর। গোটা ম্যাচে মেসিকে বল দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হন সতীর্থরা। স্পেনের রক্ষণভাগ তাঁকে এতটাই আটকে রাখে যে, মাঠে তাঁর উপস্থিতি প্রায় অনুভবই করা যায়নি।
আর্জেন্টিনার খেলায় ছিল না আক্রমণের ধার, ছিল না মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণও। বিপরীতে স্পেন নিজেদের ফুটবল দর্শনের প্রতি অবিচল থেকেছে। দ্রুত পাস, নিখুঁত অবস্থান নির্বাচন এবং আক্রমণে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করেছে তারা।
১১ জুন শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপের সমাপ্তি ঘটল ১৯ জুলাই। ৪৮টি দেশকে নিয়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোয়। আর সেই মহারণের শেষ হাসি হাসল স্পেন। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের শিরোপা জিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল তারা।

