আইপিএলে পঞ্জাব কিংসের খারাপ সময় যেন কাটছেই না। টানা চার ম্যাচে হারতে হল শ্রেয়স আয়ারের দলকে। এবার তাদের হারিয়ে প্লে-অফের আশা জিইয়ে রাখল দিল্লি ক্যাপিটালস। ঘরের মাঠে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২১০ রান তুলেও শেষরক্ষা করতে পারল না পঞ্জাব। জবাবে দিল্লি ১৯ ওভারেই ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়। এই জয়ের ফলে দিল্লির পয়েন্ট দাঁড়াল ১২ ম্যাচে ১০। অন্যদিকে পঞ্জাব ১১ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়েই আটকে রইল।
টস জিতে প্রথমে পঞ্জাবকে ব্যাট করতে পাঠান দিল্লির অধিনায়ক অক্ষর পটেল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে শুরু করেন দুই ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য ও প্রভসিমরণ সিংহ। প্রভসিমরণ ১৫ বলে ১৮ রান করে আউট হলেও পাওয়ার প্লেতেই দ্রুত রান তুলে ফেলে পঞ্জাব। মাত্র ৬.৫ ওভারে স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ৭৮ রান।
এরপর প্রিয়াংশ দুরন্ত ব্যাটিং করে দলের ভিত আরও মজবুত করেন। ৩৩ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে তিনি মারেন ২টি চার ও ৬টি ছক্কা। তিন নম্বরে নেমে অধিনায়ক শ্রেয়সও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। শুরুতে সময় নিয়ে পরে বড় শট খেলতে শুরু করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৩৬ বলে ৫৯ রান করেন শ্রেয়স। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। মাঝের দিকে কুপার কোনলি ২৭ বলে ৩৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে সূর্যাংশ শেডগের ঝোড়ো ব্যাটিং পঞ্জাবকে ২০০ পার করায়। মাত্র ৮ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।
২১১ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় দিল্লি। দ্রুত ফিরে যান লোকেশ রাহুল ও অভিষেক পোড়েল। এরপর সালিহ পরখ ও ট্রিস্টান স্টাবসও ব্যর্থ হন। অল্প রানেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দিল্লি।
সেই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক অক্ষর পটেল ও ডেভিড মিলার। দু’জনে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ম্যাচে ফেরান দিল্লিকে। অক্ষর এ বার আইপিএলে নিজের প্রথম অর্ধশতরান করেন। মাত্র ৩০ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ২টি ছক্কা। অন্যদিকে মিলারও দুরন্ত ব্যাটিং করে ২৮ বলে ৫১ রান করেন। তিনি মারেন ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা। তাঁদের জুটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
শেষ দিকে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও আশুতোষ শর্মা দ্রুত রান তুলে দিল্লিকে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দেন। ১০ বলে ২৪ রান করে তিনি আউট হন। পরে মোহাম্মদ নবি মাত্র ২ বলে ১০ রান করে ম্যাচ শেষ করে দেন। মাধবও ৮ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ে প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে রইল দিল্লি, আর পঞ্জাবের উদ্বেগ আরও বাড়ল।

