ইংল্যান্ডের ক্ষত ভুলিয়ে জিম্বাবোয়েতে শুরু শ্রেয়সের জয়যাত্রা

ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারার পর ভারতীয় দলের ওপর চাপ ছিল যথেষ্ট। ইউরোপের মাটিতে ব্যাটিং-বোলিং কোনও বিভাগেই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দল। সেই হতাশা কাটিয়ে জিম্বাবোয়ে সফরে অবশ্য সম্পূর্ণ অন্য রূপে দেখা গেল টিম ইন্ডিয়াকে। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করল ভারত। ব্যাট হাতে ঈশান কিষান ও তিলক বর্মার ঝোড়ো ইনিংস, তার সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত বোলিং—সব মিলিয়ে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজ নিজেদের দখলে নিল ভারত। একই সঙ্গে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার কোনও সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলেন শ্রেয়স আইয়ার।
এই সফরে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের পরিবর্তে দলের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দিলেও দল নিয়ে অতিরিক্ত পরীক্ষানিরীক্ষার পথে হাঁটছেন না তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে একমাত্র পরিবর্তন হিসেবে অশোক শর্মার জায়গায় সুযোগ পান যশ ঠাকুর। সেই সিদ্ধান্তও সঠিক প্রমাণিত হয় ম্যাচের শেষে।
হারারের মাঠে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবোয়ের অধিনায়ক সিকান্দর রাজা। শুরুতে ভারতের দুই ওপেনারের মধ্যে বৈভব সূর্যবংশীর কাছ থেকে বড় ইনিংসের আশা ছিল। তবে আগের ম্যাচের মতো বিস্ফোরক ব্যাটিং করতে পারেননি তিনি। মাত্র ৯ বলে ২০ রান করে ফিরে যান। অন্য ওপেনার অভিষেক শর্মাও ব্যাট হাতে সফল হননি। তিনি করেন মাত্র ৮ রান। অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারও ভালো শুরু করলেও সেটিকে বড় ইনিংসে পরিণত করতে পারেননি। ২৫ রান করে আউট হন তিনি।
এরপর ইনিংসের দায়িত্ব তুলে নেন ঈশান কিষান। গত এক বছরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিকভাবে রান করে চলা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জিম্বাবোয়ের বোলারদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেন। মাত্র ৪৪ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে তিনি মারেন ৯টি চার ও ২টি ছক্কা। তাঁর ইনিংস ভারতকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়।
অন্য প্রান্তে আরও বিধ্বংসী ছিলেন তিলক বর্মা। শেষের ওভারগুলোতে জিম্বাবোয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাত্র ২৯ বলে অপরাজিত ৬০ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ও ছক্কা। ঈশান ও তিলকের দুরন্ত জুটিতে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে শক্তিশালী সংগ্রহ দাঁড় করায়।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন ব্রায়ান বেনেট। তিনি ১৯ বলে ৩২ রান করেন। কিন্তু তাঁর বিদায়ের পর জিম্বাবোয়ের ব্যাটিং লাইন-আপ কার্যত ভেঙে পড়ে। একের পর এক ব্যাটার দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরেন। অধিনায়ক সিকান্দর রাজা কোনও রান না করেই আউট হন, যা জিম্বাবোয়ের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। ওয়েসলি মাধেভেরে ২৪ রান করলেও ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারেননি।
ভারতের তরুণ বোলিং আক্রমণ এদিন দারুণ শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। অভিষেক ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেও বল হাতে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দেন। পার্ট-টাইম স্পিনে তিনি ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। অভিষেকের পাশাপাশি অভিষিক্ত যশ ঠাকুর এবং প্রিন্স যাদব দুটি করে উইকেট দখল করেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে জিম্বাবোয়ের ব্যাটাররা কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১২৯ রানে।
৯০ রানের এই বড় জয় শুধু সিরিজ নিশ্চিত করেনি, দলের আত্মবিশ্বাসও অনেকটাই ফিরিয়ে দিয়েছে। ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরের ব্যর্থতা পুরোপুরি মুছে না গেলেও জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে ভারতীয় শিবিরে স্বস্তি এনে দিয়েছে। বিশেষ করে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সিরিজ জয় শ্রেয়স আইয়ারের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। একই সঙ্গে ঈশান কিষানের দুর্দান্ত ফর্ম, তিলক বর্মার আগ্রাসী ব্যাটিং এবং তরুণ বোলারদের ধারাবাহিকতা আগামী দিনে ভারতীয় দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা হয়ে রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 13 =