সাহালের গোলে ডার্বি জয় মোহনবাগানের

নিজস্ব প্রতিবেদন: শনিবারের যুবভারতীতে মরশুম শুরু হল কলকাতা ডার্বি দিয়ে। ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান মেগা ডার্বি ম্যাচ দিয়ে ডুরান্ড কাপের সূচনা হল। ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারাল মোহনবাগান। সাহাল আব্দুল সামাদের গোলে ডার্বি জয় সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে আদতে কি ডার্বির মতো ম্যাচ হল? মরশুমের প্রথম ম্যাচ ডার্বি হওয়ায় দুই দলই প্রায় দু-তিন দিনের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিল। মাঠে খেলার মান দেখেও সমর্থকরা তাই বললেন। একই কথা বললেন ইস্টবেঙ্গল প্রাক্তনী বিকাশ পাঁজিও। তবে লাল-হলুদ হেড স্যার অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস যেন একটু কম ঝুঁকি নিলেন ডার্বিতে। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লেন বাগানের নয়া হেড কোচ পানাগিওটিস ডিলমপেরিস। শেষের দিকে বিশাল কাইথের তালুবন্দি হল ইস্টবেঙ্গলের একের পর এক আক্রমণ।
যুবভারতীতে ডার্বিতে দু’দলই বিদেশিহীন প্রথম একাদশ সাজিয়ে নেমেছিল। ম্যাচের শুরুর ২০ মিনিট দু-দলের তরফ থেকেই বিশেষ আক্রমণ দেখা যায়নি। ২৪ মিনিটে মোহনবাগানের আক্রমণ, বক্সের ভিতর সাহালের শট জিকসনের হাতে লাগে, স্পষ্ট হ্যান্ড বল। তবে ফাউল না দিয়ে রেফারি খেলা চালিয়ে যান। ২৭ মিনিটে এবার আক্রমণে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। ডেভিড লালহানসাঙ্গার শট রাহুল ভেকে বাঁচিয়ে দেন। খানিক পরেই আপুইয়াকে ফাউল করেন ইস্টবেঙ্গলের উইঙ্গার এডমুন্ড লালরিনডিকা, হলুদ কার্ড দেখান। প্রথমার্ধ গোলশূন্য ভাবে শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি বাড়ে। ৫২ মিনিটে সাহাল আব্দুল সামাদ বড় ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন। ডানদিক থেকে কিয়ানের মাইনাস এবং মনবীরের ফলস, গোল করে গেলেন সাহাল। পিছিয়ে পড়ে দলে বদল আনেন ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস। দুই রোহিতকে তুলে রশিদ ও বিষ্ণুকে নামান হাবাস। অন্যদিকে মোহনবাগান কোচ পানোস কিয়ানের জায়গায় সার্বিয়ান তারকা বিদেশি দ্রাজিচকে নামালেন। নতুন বিদেশিকে সম্মান জানাতে মোহনবাগান সমর্থকরা তখন গ্যালারি থেকে অভিবাদন জানাল। ৬৮ মিনিটে মনবীরকে তুলে সুহেল আহমেস ভাট মাঠে নামেন। এরপর হাবাস তরুপের তাস হিসেবে দানি র‍্যামিরেজকে মাঠে নামান। দানি র‍্যামিরেজ যে খেলাটা খেললেন আরও আগে নামলে বাগানের বিপদ হতেই পারত। ৭০ মিনিটে বিষ্ণুর শট বাঁচিয়ে দেন বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ। ৭৪ মিনিটে শুভাশিস বোস ফাউল করেন এডমুন্ডকে।লাল-কার্ড হতেই পারত, তবে রেফারি হলুদ কার্ড দেখালেন বাগান অধিনায়ককে। ভালো জায়গায় ফ্রি কিক পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ ইস্টবেঙ্গল। এরপর দানির ফ্রিকিক পেয়ে লালচুংনুঙ্গার হেড শুভাশিস বাঁচিয় দেন। ৭৯ মিনিটে লালের শট বিশাল বাঁচিয়ে দেন, ফিরতি বলে রশিদের শট পোস্টের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৮১ মিনিটে সায়ন ও আলবার্তো নামলেন, লিস্টন ও শুভাশিসের জায়গায় খানিকটা ঝুঁকি নিয়েই নামালেন। ইস্টবেঙ্গলের দুই উইং থেকে ক্রমশ আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ছিল সেই কারণে আলবার্তোকে নামালেন পানোস। শেষ দিকে একাধিক আক্রমণ করেও গোল পেল না ইস্টবেঙ্গল। এই ম্যাচ জিতে পরবর্তী রাউন্ডের দিকে এগিয়ে থাকল মোহনবাগান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − 13 =