ভারতের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ না পেলেও ঘরোয়া বাংলার ক্রিকেটে নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন শিবশঙ্কর পাল। একাধিকবার জাতীয় দলের ডাক পেলেও শেষ পর্যন্ত দেশের জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ না পাওয়াটা তাঁর কেরিয়ারের আক্ষেপ হয়ে রয়েছে। তবুও দেশের বহু নামী ক্রিকেটারের সঙ্গে একই দলে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে আছে। বিশেষ করে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো কিংবদন্তির সঙ্গে খেলার স্মৃতি তাঁর কাছে গর্বের বিষয়। ক্রিকেট জীবন শেষ হওয়ার পর তিনি কোচিংয়ে মন দেন এবং নতুনভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা শুরু করেন।
অবসর নেওয়ার পর ধীরে ধীরে কোচিংয়ের জগতে নিজের জায়গা করে নেন শিবশঙ্কর। বাংলা দলের সহকারী কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার জোরেই এবার বড় দায়িত্ব পেলেন তিনি। ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা দেশের অনূর্ধ্ব ষোলো পেসারদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করেছে। রাজস্থানের জয়পুরে অনুষ্ঠিত হবে এই শিবির। সেখানে কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিবশঙ্কর পালকে। এই নিয়োগের খবর তাঁকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির প্রধান কোচ ভি ভি এস লক্ষ্মণ।
এই সুযোগকে নিজের কেরিয়ারের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন শিবশঙ্কর। তাঁর কথায়, এগারো মে থেকে ছয় জুন পর্যন্ত চলবে এই শিবির এবং তার জন্য দশ মে তাঁকে জয়পুরে পৌঁছতে হবে। তরুণ পেসারদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি যথেষ্ট আনন্দিত। তাঁর অভিজ্ঞতা আগামী দিনের ক্রিকেটারদের গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ক্রিকেটের পাশাপাশি জীবনের আরেকটি অধ্যায়েও পা রেখেছিলেন তিনি। যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেস দলে এবং নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবেও দাঁড়ান। নিজের জন্মভূমি তুফানগঞ্জ থেকেই তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক লড়াইয়ে জয় আসেনি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হতে হয় তাঁকে।
তবে এই হার তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে পড়ে থাকতে চান না তিনি। বরং তুফানগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাই প্রকাশ করেছেন। প্রচারের সময় একটি ঘটনা তাঁকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়। এক বিশেষভাবে সক্ষম যুবক শারীরিক সমস্যার কারণে ভোট দিতে যেতে পারছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে নিজেই উদ্যোগ নেন শিবশঙ্কর। তাঁর চেষ্টাতেই সেই যুবক হুইলচেয়ারে করে ভোট দিতে সক্ষম হয়।
এই ছোট ছোট মানবিক মুহূর্তগুলোকেই জীবনের বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন শিবশঙ্কর পাল। ক্রিকেট হোক বা সমাজ, দুই ক্ষেত্রেই নিজের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন তিনি।

