ব্যর্থ কোনোলির সেঞ্চুরি ! জঘন্য ফিল্ডিংয়ে হারের হ্যাট্রিক পাঞ্জাবের

সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচে পঞ্জাব কিংসের হয়ে একাই লড়াই চালালেন কুপার কোনোলি। প্রতিপক্ষ বোলারদের বিরুদ্ধে অনায়াসে বড় শট খেললেও অন্য প্রান্ত থেকে তেমন কোনও সমর্থন পাননি তিনি। এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গেলে দলগত অবদান জরুরি, কিন্তু সেই জায়গাতেই পিছিয়ে পড়ে পঞ্জাব। ফলে দুর্দান্ত শতরান করেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় কোনোলিকে।
এই ম্যাচে হেরে পঞ্জাবের পরাজয়ের ধারা আরও দীর্ঘ হল। টুর্নামেন্টের শুরুতে টানা সাতটি ম্যাচ জিতে দারুণ ফর্মে থাকা দলটি এখন টানা তিনটি ম্যাচে হারল। রাজস্থান রয়্যালস ও গুজরাত টাইটান্সের পর এবার তাদের হারাল হায়দরাবাদ। অন্যদিকে এই জয় হায়দরাবাদকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে তুলে দিল।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে হায়দরাবাদের ওপেনিং জুটি। ট্র্যাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা পাওয়ার প্লের পুরো সুবিধা নিয়ে দ্রুত রান তোলেন। মাত্র ৩২ বলে ৭৩ রান তুলে পঞ্জাবকে শুরুতেই চাপে ফেলে দেন তাঁরা। নতুন বলে উইকেট তুলতে ব্যর্থ হন পঞ্জাবের বোলাররা, উপরন্তু ফিল্ডিংয়েও একাধিক ভুল পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে।
ঈশান কিশন ও হাইনরিখ ক্লাসেন সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংসকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। দু’জনেই অর্ধশতরান করেন। ঈশান ৩২ বলে ৫৫ রান করে আউট হন, আর ক্লাসেন শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৬৯ রান করেন। তাঁর সঙ্গে নীতীশ কুমার রেড্ডির ঝোড়ো ইনিংস দলকে ২০ ওভারে ২৩৫ রানে পৌঁছে দেয়।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পঞ্জাব। দ্রুত উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে তারা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে একাই লড়াই চালিয়ে যান কোনোলি। তাঁর সঙ্গে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন মার্কাস স্টোইনিস ও সূর্যাংশ শেরগে, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। স্টোইনিস ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হন, অন্যদিকে বাকিরা বড় রান করতে ব্যর্থ হন।
এক প্রান্ত আগলে রেখে কোনোলি নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক খেলাই চালিয়ে যান। রান রেট বাড়তে থাকলেও তিনি থামেননি। শেষ পর্যন্ত ৫৯ বলে ১০৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন চার ও ছক্কা। তবে অন্যদের ব্যর্থতায় তাঁর এই অসাধারণ প্রচেষ্টা দলকে জেতাতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২০২ রান করে পঞ্জাব, ফলে ৩৩ রানে হারে তারা। তিন বিভাগেই—ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—হায়দরাবাদ স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল। কোনোলির ইনিংস পঞ্জাবকে বড় ব্যবধানে হার থেকে বাঁচালেও জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। তাঁর এই পারফরম্যান্স অবশ্য ভবিষ্যতের জন্য বড় আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − fifteen =