বাংলার স্কুল পড়ুয়ারা পাবে ডিজিটাল পরিচয়, ‘অপার আইডি’-র সঙ্গে যুক্ত হবে সম্পূর্ণ শিক্ষাগত রেকর্ড

কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের স্কুল পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল পরিবর্তনের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। রাজ্য সরকার কেন্দ্র সরকারের সহযোগিতায় পড়ুয়াদের শিক্ষাগত পরিচয়কে ডিজিটাল রূপ দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অধীনে পড়ুয়াদের জন্য ‘অপার আইডি’ (অটোমেটেড পারমানেন্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রি) তৈরি করা হবে, যার মাধ্যমে তাদের পুরো শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও রেকর্ড একটিমাত্র ডিজিটাল পরিচয়ের সাথে যুক্ত থাকবে।

এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর প্রতিটি পড়ুয়া একটি ১২ ডিজিটের অনন্য পরিচয় নম্বর (ইউনিক আইডি) পাবে বলে জানা গেছে। অপার আইডি-কে পড়ুয়াদের একটি স্থায়ী ডিজিটাল শিক্ষাগত পরিচয় হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

অপার আইডি-র মাধ্যমে পড়ুয়াদের মার্কশিট, সার্টিফিকেট, ডিগ্রি, ডিপ্লোমা এবং অন্যান্য শিক্ষাগত অর্জনের সমস্ত নথি ডিজিটালভাবে এক জায়গায় সংরক্ষিত থাকবে। এর ফলে পড়ুয়াদের বারবার নিজেদের আসল বা কাগজের নথি বহন করা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জমা দেওয়ার ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে।

এই ডিজিটাল ব্যবস্থাকে ‘ডিজিলকার’ এবং ‘অ্যাকাডেমিক ব্যাংক অব ক্রেডিট’-এর মতো ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি, এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি এবং শিক্ষাগত নথিপত্র যাচাইকরণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে।

অপার আইডি কেবল বিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না। পড়ুয়াদের পরবর্তী পড়াশোনা সংক্রান্ত সমস্ত রেকর্ডও এই ডিজিটাল পরিচয়ের সাথে যুক্ত থাকবে। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সময় নথিপত্র যাচাই থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

সমস্ত রেকর্ড অনলাইনে পাওয়ার সুযোগ থাকায় নথির ফটোকপি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরে বেড়ানোর দিন শেষ হতে চলেছে। পাশাপাশি, ডিজিটাল সংরক্ষণের ফলে নথিপত্র হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে না।

তবে নাবালক পড়ুয়াদের জন্য অপার আইডি তৈরি করার আগে অভিভাবকদের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ, পিতা-মাতা বা অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কোনো নাবালক পড়ুয়ার ডিজিটাল শিক্ষাগত পরিচয় তৈরি করা হবে না। এই ব্যবস্থায় পড়ুয়াদের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্যের নিরাপত্তাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে অপার আইডি-কে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে এটি পড়ুয়াদের সমস্ত নথিপত্র ব্যবস্থাপনাকে আরও গোছানো ও সুবিধাজনক করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − three =