পাডিক্কলের ব্যাটে রানবন্যা কলম্বোয়, গিলের অনন্য মাইলফলকে এগিয়ে ভারত 

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন থেকেই নিজেদের আধিপত্য স্পষ্ট করে দিল ভারতীয় দল। কলম্বোয় টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় টিম ইন্ডিয়া এবং সেই সিদ্ধান্তকে সার্থক করে তোলেন ব্যাটাররা। দিনের শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০০ রান। এই ইনিংসের মূল ভরসা ছিলেন দেবদত্ত পাড়িক্কল, যিনি আবারও শতরান করে দলের ভিত শক্ত করেন। অন্যদিকে ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল অর্ধশতরান করার পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন নজির গড়েছেন।
ভারতের শুরুটা অবশ্য খুব একটা খারাপ হয়নি। ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ৪৫ রান করে আউট হওয়ার আগে দলের স্কোর এগিয়ে নিয়ে যান। আউট হওয়ার পর মাঠে শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটিও দেখা যায়, যা দিনের অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তবে সেই বিতর্ক বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এরপর ব্যাট করতে নামেন কেএল রাহুল। কিন্তু তিনি বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন এবং মাত্র ১৮ রান করে ফিরে যান।
এরপরই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন দেবদত্ত পাড়িক্কল। প্রথম টেস্টেও শতরান করেছিলেন তিনি, আর দ্বিতীয় টেস্টেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। শুরুতে ধৈর্য ধরে ব্যাট করলেও পরে শ্রীলঙ্কার বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমণ চালান। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল নিখুঁত রক্ষণ ও আক্রমণের দুর্দান্ত মিশেল। ১৯৩ বল মোকাবিলা করে ১১৭ রান করেন তিনি। ইনিংস সাজানো ছিল ১২টি চারে। শেষ পর্যন্ত স্পিনার কেশারা নুয়ান্থার বলে আউট হলেও তাঁর ইনিংস ভারতের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। ধারাবাহিক দুই টেস্টে শতরান করে তিনি তিন নম্বর ব্যাটিং পজিশনে নিজের দাবি আরও শক্তিশালী করলেন।
ভারত অধিনায়ক শুভমান গিলও গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। যদিও তিনি শতরানের কাছাকাছি পৌঁছতে পারেননি, তবুও ১০৮ বলে ৫০ রান করে দলের স্কোর এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার। আসিথা ফার্নান্ডোর বলে উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকওয়েল্লার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেও এই ইনিংস তাঁকে এনে দেয় এক বড় ব্যক্তিগত সাফল্য। টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করেন গিল। কেশারা নুয়ান্থার বলে চার মেরে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
মাত্র ২৬ বছর ৩৪৯ দিন বয়সে টেস্টে ৩০০০ রান পূর্ণ করে গিল ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। এই কৃতিত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে তিনি কপিল দেবকে পিছনে ফেলেছেন, যিনি ২৬ বছর ৩৫৬ দিনে এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন। তবে সবচেয়ে কম বয়সে ভারতের হয়ে টেস্টে ৩০০০ রান করার রেকর্ড এখনও কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকরের দখলে। তিনি মাত্র ২৩ বছর ২২৮ দিন বয়সে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তালিকার প্রথম সারিতেই রয়েছেন আরেক কিংবদন্তি বীরেন্দ্র শেহওয়াগও।
শুধু ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড গড়েছেন শুভমান গিল। কলম্বো টেস্টে তাঁর অর্ধশতরানের সুবাদে তিনি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের একটি চক্রে ১০০০ রানের গণ্ডি পার করা প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক হয়েছেন। এর আগে ২০১৯-২১ চক্রে বিরাট কোহলি অধিনায়ক হিসেবে ৯৩২ রান করেছিলেন। ফলে গিলের এই সাফল্য ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় যোগ করল।
প্রথম দিনের শেষে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। দেবদত্ত পাড়িক্কলের শতরান এবং শুভমান গিলের রেকর্ডগড়া ইনিংসের সৌজন্যে দ্বিতীয় টেস্টে বড় স্কোরের পথে এগিয়ে রয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এখন দ্বিতীয় দিনে এই ভিত্তিকে আরও মজবুত করে শ্রীলঙ্কার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই হবে ভারতের লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 12 =