ডুরান্ডের রঙ লাল-হলুদ, ক্লান্ত বাগানকে ধরাশায়ী করে জয়ী ইস্টবেঙ্গল 

 আধুনিক ফুটবল কেবল আবেগের উপর চলে না। ফুটবল বিজ্ঞান মেনে চলে। মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই-ই কেবল নয়, হার জিত নির্ভর করে থাকে মাঠের বাইরের অনেক বিষয়ের উপর। ফুটবলের সূচি, ঠিকমতো রিকভারি, অনুশীলন এই সব বিষয়ের উপর নির্ভর করে থাকে। ডুরান্ড কমিটির ব্যর্থতা এখানে অবশ্যই রয়েছে। একটা দল তিন দিন পর ঘরের মাঠে ফাইনাল খেললো, ম্যাচের আগেরদিন একেবারে বিশ্রামে কাটাল। অন্য দল শিলংয়ের মাঠে সেমিফাইনাল থেকে বাস, বিমানযাত্রা পেরিয়ে মাত্র একদিনের অনুশীলনে ডার্বিতে নামল। মোহনবাগানের হারের পিছনে অবশ্যই ক্লান্তি দায়ী।
রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রেকর্ড ১৭ তম ডুরান্ড কাপ জিতল ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারাক ইস্টবেঙ্গল। হ্যাটট্রিক করলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা, আরও একটি গোল করেন বিপিন সিং। মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মনবীর সিং। প্রথমার্ধে লাল-হলুদের দুরন্ত ফর্মে ধরাশায়ী চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান। গোটা ম্যাচেই সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের মধ্যে ক্লান্তি স্পষ্ট।
ম্যাচের শুরুতেই ৯ মিনিটে সমীর জেলকোভিচের ক্রস থেকে লিস্টন কোলাস্ক একটি সুযোগ পায়। যদিও সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। একটানা মোহনবাগানের আক্রমণের পর আচমকাই প্রতি আক্রমণ থেকে প্রথম গোল করে ইস্টবেঙ্গল। বিপক্ষের অর্ধে বল পান রশিদ। শট নেওয়ার ভান করে তিনি দুর্দান্তভাবে বল বাড়িয়ে দেন বিপিনের দিকে। ১০ মিনিটে বিপিন ঠান্ডা মাথায় একবার টাচ নিয়ে কাইথকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন। ২০ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর ফ্রি-কিক শট লাল-হলুদের গোলকিপার প্রভসুখন গিল বাঁচিয়ে দেন। ২০ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর ফ্রি-কিক শট লাল-হলুদের গোলকিপার প্রভসুখন গিল বাঁচিয়ে দেন।
ব্যবধান বাড়াল ইস্টবেঙ্গল। জেসিনের পরিবর্তে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন এডমন্ড। ১২ মিনিটে বক্সের বাইরে বল পেয়ে সামনে একাধিক মোহনবাগান ফুটবলার থাকা সত্ত্বেও শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিচু শটটি কাইথের পক্ষে সামলানো কঠিন হয়ে যায়। বলের বাউন্স ঠিকমতো আঁচ করতে না পারায় তাঁর আরও ভালো করা উচিত ছিল। শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়িয়ে যায়। মোহনবাগানের জন্য ভয়াবহ কয়েকটি মিনিট!
এবার ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ব্যবধান বাড়ালেন এডমন্ড লালরিন্দিকা। ২২ মিনিটে অসাধারণ একক দক্ষতায় তিনি বিশাল কাইথকে পরাস্ত করেন এবং চোখ ধাঁধানো একটি গোল করলেন। বাঁ দিক থেকে বল পান ভাট। তিনি রামিরেজকে বল বাড়ান। রামিরেজ সেখান থেকে এডমন্ডকে দুর্দান্ত থ্রু বল দেন। এডমন্ড বক্সে ঢুকে প্রথমে একবার টাচে বল নিয়ন্ত্রণ করেন, তারপর এগিয়ে আসা কাইথকে কাটিয়ে আরও এক টাচে বল নিয়ে ফাঁকা গোলে পাঠিয়ে দেন।
বল নিয়ে দাঁড়ান রশিদ। তিনি বক্সের দূরের দিকে দুর্দান্ত একটি ক্রস বাড়ান, যেখানে ছুটে আসেন জয় গুপ্তা। জয় গুপ্তা সেখান থেকে বলটি মাঝখানে বাড়িয়ে দেন। ৪৪ মিনিটে ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমন্ড। প্রথমার্ধে এডমন্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। ৩৩ মিনিটে একটি দুর্ধর্ষ গোল করলেন মনবীর সিং। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস জানিয়ে গেলেন, সেই ডার্বি জয়কে এগিয়ে রাখবেন, কারণ টুর্নামেন্টের ফাইনাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × five =