গোয়ালিয়র (মধ্যপ্রদেশ) : নবরাত্রির পুণ্যলগ্নে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে ঘটে গেল এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুণ্যার্থীদের ভিড়ের ওপর উঠে গেল একটি ঘাতক ট্রাক। গোয়ালিয়রের শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে শনিবার গভীর রাতের এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪। গুরুতর জখম হয়েছেন অন্তত ২৯ জন।
গোয়ালিয়রের জেলাশাসক রুচিকা চৌহান ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে সহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে চিকিৎসকদের দল।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত আনুমানিক দেড়টা নাগাদ ছিন্নোরের দিক থেকে মন্দিরের অভিমুখে দ্রুতগতিতে আসছিল ট্রাকটি। মন্দিরের কাছাকাছি পৌঁছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি বাঁ দিকে থাকা পুণ্যার্থীদের ওপর হুড়মুড়িয়ে উঠে যায় এবং একের পর এক মানুষকে পিষে দেয়। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং জোরকদমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
দুর্ঘটনার পর স্বজনহারা পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল চত্বর। দুর্ঘটনায় নিজের ছেলেকে হারানো দিব্যাংশের মা কাঁদতে কাঁদতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বৌমা, বড় ছেলে এবং ছোট ছেলে সেখানে ছিল। সকাল ছ’টায় আমাকে খবর দেওয়া হয়। আমার মেয়ে তাঁদের খুঁজতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ কেন আমাদের সাহায্য করবে না? নিজের সন্তান হলে কি কষ্ট হতো না?”
উৎসবের ভিড়ে কড়া নজরদারি সত্ত্বেও কীভাবে ভারী যান ওই রাস্তায় ঢুকল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জেলাশাসক রুচিকা চৌহান বলেন, “নবরাত্রি উপলক্ষে ওই রাস্তায় ব্যারিকেড ও পুলিশ চেকপয়েন্ট বসানো ছিল। সেই ব্যারিকেড পেরিয়ে ট্রাকটি কীভাবে ভেতরে ঢুকল, তা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেটি বাঁ দিকে বাঁক নিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আরটিও দলকে ট্রাকটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।” ট্রাকচালককে চিহ্নিত করতে ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশি তদন্ত জারি রয়েছে।

