নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য অবশেষে বাকি দুই ফর্ম্যাটের দল ঘোষণা করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। টি-টোয়েন্টি দলের তালিকা আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। এবার ওয়ানডে এবং টেস্ট দলের ঘোষণা ঘিরে ক্রিকেটমহলে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। একদিকে যেমন প্রত্যাশামতোই এক দিনের ক্রিকেটে জায়গা পেয়েছেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি, তেমনই বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য রয়েছে সুখবর। ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছেন বাংলার পেসার আকাশ দীপ। তবে টেস্ট দলে জায়গা হয়নি অভিজ্ঞ মহম্মদ শামির। পাশাপাশি এক দিনের ক্রিকেটে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে ভারতের তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরাহকে।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজ ভারতের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চাইবে টিম ইন্ডিয়া। ফলে সাদা বলের ক্রিকেটের পাশাপাশি লাল বলের লড়াইয়েও নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। ওয়ানডে দলে রোহিত-বিরাটের উপস্থিতি প্রত্যাশিতই ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দু’জনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা হলেও এক দিনের ফর্ম্যাটে তাঁদের অভিজ্ঞতা ভারতের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। ব্যাটিংয়ের ভিত মজবুত করার পাশাপাশি চাপের পরিস্থিতিতে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে দুই তারকা ক্রিকেটারের। তাই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁদের পারফরম্যান্সের দিকে আলাদা করে নজর থাকবে সমর্থকদের।
অন্যদিকে, বাংলার আকাশ দীপের দলে অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ঘরোয়া ক্রিকেটে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এই পেসার। ওয়ানডে দলে সুযোগ পাওয়ায় জাতীয় দলের হয়ে নিজের জায়গা আরও শক্ত করার সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হল তাঁর। যদিও টেস্ট দলে মহম্মদ শামির না থাকা কিছুটা হতাশাজনক। অভিজ্ঞ এই পেসারের অনুপস্থিতিতে ভারতের বোলিং আক্রমণ কীভাবে সাজানো হয়, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ওয়ানডে সিরিজের নেতৃত্বের দায়িত্বও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম তিনটি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন শুভমান গিল। পরের দুই ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন শ্রেয়স আইয়ার। অর্থাৎ সিরিজের মাঝপথে নেতৃত্বে পরিবর্তন দেখা যাবে। গিলের নেতৃত্বে শুরুর ম্যাচগুলিতে ভারত কেমন পারফর্ম করে, সেটাই দেখার। পরবর্তী দুই ম্যাচে শ্রেয়সের সামনে থাকবে দলকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ।
তবে সিরিজের শেষ দুই ওয়ানডেতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে পাওয়া যাবে না। শুভমান গিল, কে এল রাহুল এবং প্রসিধ কৃষ্ণ ওই ম্যাচগুলিতে খেলবেন না। তাঁদের নজর থাকবে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিতে। দুই ফর্ম্যাটের মধ্যে ক্রিকেটারদের কাজের চাপ সামলানো এবং লাল বলের ক্রিকেটের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতেই এই পরিকল্পনা বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ৪ নভেম্বর। পাঁচ ম্যাচের এই প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার কথা ১৫ নভেম্বর। তার পরেই শুরু হবে টেস্টের লড়াই। ১৯ নভেম্বর ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২৭ নভেম্বর। অর্থাৎ এক দিনের সিরিজ শেষ হওয়ার পর খুব বেশি সময় পাবে না দুই দল। ফলে ফর্ম্যাট বদলের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াটাও ক্রিকেটারদের কাছে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। ভারতের কাছে টেস্ট সিরিজের গুরুত্ব আরও বেশি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে হলে এই সিরিজে ভালো ফল করা প্রয়োজন। নিউজিল্যান্ডের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের ঘরের মাঠে কিংবা নির্ধারিত ভেন্যুতে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলতে হবে ভারতকে। ব্যাটিংয়ের স্থিরতা এবং পেস আক্রমণের কার্যকারিতাই হয়ে উঠতে পারে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
ওয়ানডেতে রোহিত-বিরাটের অভিজ্ঞতা, আকাশ দীপের নতুন সুযোগ, নেতৃত্বে রদবদল এবং টেস্টে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই সব মিলিয়ে একাধিক বিষয় নজর কাড়ছে। এক দিনের ক্রিকেটে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রত্যাশা যেমন থাকছে, তেমনই টেস্ট সিরিজে ভারতের পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে থাকবেন সমর্থকেরা। শেষ পর্যন্ত ভারত কতটা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে, তার উত্তর দেবে মাঠের লড়াই।

