নয়াদিল্লি : শুক্রবার আম আদমি পার্টির (এএপি) সাতজন রাজ্যসভা সাংসদের দলত্যাগ ও বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে পঞ্জাবিদের ‘আবারও সরিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন দলের জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে করে তিনি বলেন, “বিজেপি আবারও পঞ্জাবিদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে।” তাঁর দাবি, এই ঘটনাই প্রমাণ করে বিজেপি পাঞ্জাবের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
এর আগে, রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, এএপি–র রাজ্যসভার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, সংবিধানের বিধান মেনেই তাঁরা এই একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে সাংসদ পদ খোয়ানোর সম্ভাবনা না থাকে।
দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত ওই সাংবাদিক বৈঠকে অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠক-সহ আরও চারজন সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের কথা ঘোষণা করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রম সাহনি এবং স্বাতী মালিওয়াল।
রাঘব চাড্ডা অভিযোগ করেন, এএপি তার মূল নীতি ও আদর্শ থেকে সরে গেছে। তাঁর বক্তব্য, “১৫ বছর ধরে যে দল গড়ে তুলেছি, সেটি এখন ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন।
অন্যদিকে, এএপি–র পঞ্জাব ইউনিট বিজেপির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন লোটাস’-এর অভিযোগ তুলে দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র নির্দেশে রাঘব চাড্ডাকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করে দল ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। দলের মুখপাত্র বালতেজ পান্নু বলেন, এতে পঞ্জাবের কণ্ঠস্বর দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগ অবশ্য খারিজ করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, এএপি–র অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যসভায় এএপি–র শক্তি কমে যাওয়া এবং সাতজন সাংসদের একযোগে দলত্যাগ পঞ্জাবের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

