প্রোমোটার রাজের অভিযোগ, মাঠ ফেরানোর দাবিতে বিক্ষোভে নবীন-প্রবীণ

নিজস্ব প্রতিবেদন, বাঁকুড়া: কোনও একদিন বা দু’দিন নয়, দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে সবুজ বনানী ঘেরা মাঠে শরীর চর্চা চলে আসছে দশটি গ্রামের বাসিন্দাদের। হঠাৎ করে এক লহমায় কেউ বা কারা মাঠ জবর দখল করে নির্মাণ শুরু করেছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। তারপরেই প্ল্যাকার্ড হাতে মাঠ বাঁচানোর তাগিদে আন্দোলনে নেমে পড়লেন এলাকার নবীন থেকে প্রবীণ সব সম্প্রদায়ই। ঘটনাটি বাঁকুড়া জেলার ছাতনা ব্লকের ঘোষের গ্রাম পঞ্চায়েতের দলপুর এলাকার।
বুধবার দীর্ঘ কয়েক প্রজন্ম ধরে ওই মাঠ এলাকার বাসিন্দাদের প্রাণবায়ু প্রদান করে আসছে। নিয়মিত ওই মাঠেই চলে প্রায় ১০-১৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের খেলাধুলো সহ বিভিন্ন শরীরচর্চার অনুশীলন। ওই মাঠে শরীর চর্চা করে আশপাশের বেশ কয়েকটি যুবক প্রতিরক্ষামূলক দপ্তরে চাকরিও পেয়েছে। এমনকি ওই মাঠে একাধিক সরকারি উদ্যোগে খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও দাবি গ্রামবাসীদের। কিন্তু কি এমন হল ওই মাঠ জবর দখল করে নির্মাণ শুরু করলেন একদল প্রোমোটার।
গ্রামবাসীদের দাবি, বাপ ঠাকুরদাদার আমল থেকে এই মাঠে খেলাধুলো করতে দেখে আসছেন তাঁরা সকলকেই। এক কথায় বলতে গেলে পার্শ্ববর্তী ১০-১৫টা গ্রামের লাইফ লাইন এই মাঠ। কিন্তু কোনও কিছু না জানিয়েই এক মুহূর্তের মধ্যে মাঠে খননকার্য শুরু করেছে এক শ্রেণির মানুষ। এই বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে শুরু কর জেলাশাসকের দপ্তরে জানানো হলেও এখনও অবধি কোনও সুরাহা মেলেনি।
মাঠ দখলের অভিযোগ সামনে আসতেই ময়দানে নেমে পড়েছে শাসক-বিরোধী দুই শিবিরই। তৃণমূল এবং বিজেপি দ’ুজনেই অবশ্য এই মাঠ দখলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তৃণমূলের তরফ থেকে ছাতনা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বঙ্কিম মিশ্র দাবি করেন, ‘ছোটদের এই মাঠ দখলকে কোনও ভাবেই আমরা সমর্থন করি না, নির্বাচনী বিধি লাগু হয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি কোনও কাজ করা যায় না। অভিযোগের ভিত্তিতে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিজেপির তরফ থেকে বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক স্বপন মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘এই মাঠ দখল তৃণমূলের নেতাদের মদতেই চলছে, যাকে এক কথায় বলে প্রোমোটার রাজ। আমরা এর ধিক্কার জানাই। শিশুদের মাঠ তাদেরই ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’ তবে বিষয় যাই হোক না কেন, বাপ ঠাকুরদাদার আমল থেকে দেখে আসা খেলার মাঠ কি আগের চেহারায় ফিরে পাবে গ্রামবাসীরা, নাকি অসাধু ব্যবসায়ীদের কোপে হেলায় হারাবে! যদিও গ্রামবাসীরা যেন নাছোড়বান্দা যে কোনও হালেই তাদের এই মাঠ ফিরিয়ে দিতেই হবে, নইলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে অগ্রসর হবে বলেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *