নয়াদিল্লি : স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেশের উন্নয়নের জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি এই সাতটি ক্ষেত্রকে ‘শক্তির সপ্তধা’ আখ্যা দিয়েছেন। সেগুলি হলো— উৎপাদন শিল্প, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গতিশক্তি, প্রতিরক্ষা শক্তি, সবুজ ও নীল অর্থনীতি এবং ভারতের সফট পাওয়ার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক শক্তি হলো জ্বালানি নিরাপত্তার একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম। সংসদে ‘পিস অ্যাক্ট’ বা শান্তি আইন পাসের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন লক্ষ্যের পথে এগিয়ে চলেছি। ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো কেবল এই দশকের মধ্যেই পাঁচটি নতুন পারমাণবিক চুল্লি চালু করা। এ বছর ভারত ‘ফাস্ট ব্রিডার’ পারমাণবিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “সপ্ত ধারার চতুর্থ ‘শক্তি’ হলো ‘গতি-শক্তি’—অর্থাৎ দেশের অভ্যন্তরে নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা। আমাদের প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন উচ্চ-গতির রেল যোগাযোগ, আধুনিক মহাসড়ক ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ জলপথ, বিমানবন্দর, মাল্টি-মোডাল লজিস্টিক হাব এবং বন্দর। বন্দর-কেন্দ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। পঞ্চম ‘শক্তি’ হলো প্রতিরক্ষা উৎপাদন; এক্ষেত্রে আমাদের আত্মনির্ভরশীল হতে হবে এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহকারী হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।” স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “‘সপ্তধারা’-র ষষ্ঠ শক্তি হলো সবুজ অর্থনীতি। নবায়নযোগ্য শক্তি, শক্তি সঞ্চয়, সবুজ সংরক্ষণ এবং উৎপাদন—এই ক্ষেত্রগুলোতে আমাদের কাজ করতে হবে।
এছাড়া ‘নীল অর্থনীতি’-র ক্ষেত্রেও ভারতের সামনে সুযোগ রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, “‘সপ্তধারা’-র সপ্তম শক্তি হলো ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ বা নমনীয় শক্তি। এখন যোগব্যায়াম ভারতকে বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। আমাদের আয়ুর্বেদ, সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা, হস্তশিল্প, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন, গেমিং এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট—এসবই এর অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্ব ভারতের ‘ওয়েভস’ সামিটের দিকে তাকিয়ে আছে এবং এর গুরুত্ব স্বীকার করছে। আমাদের দেশে ১০০টিরও বেশি জাতীয় উদ্যান রয়েছে। এই ‘সফট পাওয়ার’-এর মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সুযোগ আমাদের সামনে রয়েছে।”

