ডার্বির জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতা লিগের সুপার সিক্সে বড় ধাক্কা খেল ইস্টবেঙ্গল। ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাবের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করল লাল-হলুদ। চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পাওয়ায় চাপ বাড়ল ইস্টবেঙ্গলের উপর। বিশেষ করে একই দিনে মোহনবাগান বড় ব্যবধানে জেতায় লিগের হিসাব আরও কঠিন হয়ে গেল লাল-হলুদের জন্য।
কলকাতা লিগের গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট সুপার সিক্সে যোগ হচ্ছে না। ফলে নতুন পর্বে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেশি। সেই জায়গায় প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট হারানো নিঃসন্দেহে অস্বস্তির। অন্যদিকে আগের ম্যাচে ৫-১ ব্যবধানে জয়ের পর এদিনও ভবানীপুরকে ২-০ গোলে হারিয়েছে মহামেডান। ফলে শুরুতেই তিন পয়েন্ট করে নিয়ে মোহনবাগান ও মহামেডান আপাতত লড়াইয়ে এগিয়ে গেল।
ডার্বিতে মোহনবাগানের সিনিয়র দলের বিরুদ্ধে ড্র করে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের বাঙালি ব্রিগেড। সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচে তাদের সামনে ছিল লালকমল ভৌমিকের ইউনাইটেড স্পোর্টস। প্রতিপক্ষ যে সহজে জায়গা ছেড়ে দেবে না, তা জানা ছিল। তার উপর দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে এদিন পাওয়া যায়নি। চাকু মান্ডি, মনোতোষ মাজি এবং বিক্রম প্রধানের অনুপস্থিতি বিশেষভাবে অনুভূত হয়েছে।
তবে রক্ষণে ইস্টবেঙ্গলকে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি। অঙ্কন ভট্টাচার্য ও মনোতোষ চাকলাদাররা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করেছেন। গোলের নিচে গৌরব সাউও ছিলেন নির্ভরযোগ্য। ফলে ইউনাইটেডের আক্রমণকে আটকে রাখতে পেরেছিল লাল-হলুদ। সমস্যা তৈরি হয়েছে মূলত মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে ওঠার সময়। চাকু ও বিজয় মুর্মুর মতো ফুটবলারদের না থাকায় আক্রমণে সেই ধারটা দেখা যায়নি।
ডার্বিতে গোল করে নায়ক হয়ে ওঠা বিলালকে এদিন প্রথম একাদশেই রাখা হয়েছিল। তাঁর গতি কয়েকবার ইউনাইটেডের রক্ষণকে সমস্যায় ফেললেও শেষ মুহূর্তের কাজে বারবার খামতি থেকে গিয়েছে। শুধু গতিতে প্রতিপক্ষকে পেরিয়ে গেলেই তো গোল আসে না, সুযোগকে গোলে পরিণত করাটাও জরুরি। সেই জায়গাতেই ব্যর্থ হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। অনন্থু ও আকাশ হেমরামও প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব ফেলতে পারেননি।
বৃষ্টির কারণে মাঠ ভারী হয়ে থাকায় দু’দলের খেলাতেই সমস্যা হচ্ছিল। তার মধ্যেও ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সৌরভ সামন্ত নজর কেড়েছেন। প্রথমার্ধের ৪০ মিনিটে বিলালের শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে আটকে দেন তিনি। ফলে গোলের সুযোগ তৈরি করেও এগিয়ে যেতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। বিরতিতে ম্যাচের স্কোর ছিল ০-০।
দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা বদলায়নি। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল, কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাব থেকেই যায়। ম্যাচের শেষদিকে একের পর এক ক্রস ভেসে এলেও সেগুলিতে তেমন বিপদ তৈরি হয়নি। ইউনাইটেডের রক্ষণ এবং গোলরক্ষক সৌরভ সামন্ত মিলে পরিস্থিতি সামলে নেন। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রতেই শেষ হয় ম্যাচ।
ম্যাচের পর ইস্টবেঙ্গল কোচ অর্চিষ্মান বিশ্বাসও দলের সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ডার্বির পর দলের মধ্যে কিছুটা আত্মতুষ্টি চলে এসেছিল। তবে এখনও লড়াই শেষ হয়নি। সামনে আরও দু’টি ম্যাচ রয়েছে এবং সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য লাল-হলুদের।
অন্যদিকে নৈহাটিতে ভবানীপুরকে ২-০ গোলে হারিয়ে সুপার সিক্সের শুরুটা দুর্দান্ত করেছে মহামেডান। ফারদিন আলি মোল্লা ও ইসরাফিল দেওয়ানের গোলে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে তারা। ফলে প্রথম ম্যাচ শেষে মোহনবাগান তিন পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, সমান পয়েন্টে গোলপার্থক্যে দ্বিতীয় মহামেডান। আর এক পয়েন্ট নিয়ে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ইস্টবেঙ্গল।

