রনজি ট্রফিতে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লড়াইয়ে এবার কঠিন পরীক্ষার মুখে বাংলা। ইডেনে মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হল না লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলের। বল হাতে শুরুতে কিছুটা লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে ব্যর্থ বাংলার বোলাররা। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে মহারাষ্ট্রের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৯ উইকেটে ২০৪ রান। ফলে প্রথম ইনিংসে ইতিমধ্যেই ৬১ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়ে গিয়েছে পৃথ্বী শয়ের দল। হাতে রয়েছে আর মাত্র একটি উইকেট। তৃতীয় দিন সকালে দ্রুত সেই উইকেট তুলে নেওয়াই এখন বাংলার প্রধান লক্ষ্য। তবে এরপর ব্যাট হাতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে ম্যাচে প্রত্যাবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মহারাষ্ট্র। তাদের সেই সিদ্ধান্ত যে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা বাংলার প্রথম ইনিংসেই স্পষ্ট। শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল। কোনও ব্যাটারই দীর্ঘক্ষণ ক্রিজে দাঁড়িয়ে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। ফলে বড় রানের স্বপ্ন কার্যত শুরুতেই ধাক্কা খায়। শেষ পর্যন্ত কোনও রকমে ১৪৩ রানে শেষ হয় বাংলার প্রথম ইনিংস। ঘরের মাঠে ইডেনের পিচে এমন ব্যাটিং বিপর্যয় স্বাভাবিকভাবেই দলের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
বাংলার ব্যাটিং ব্যর্থতার পর প্রত্যাশা ছিল, বোলাররা নিজেদের দক্ষতায় ম্যাচে ফিরিয়ে আনবেন দলকে। প্রথম দিনের শেষ পর্বে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন মহম্মদ শামি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও গতির সামনে সমস্যায় পড়েন মহারাষ্ট্রের ব্যাটাররা। দিনের শেষে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে লড়াইয়ে ফেরার রাস্তা তৈরি করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় দিনেও শুরুতে সেই ছন্দ বজায় রাখার চেষ্টা করে বাংলা। শামির পাশাপাশি বল হাতে কার্যকর ভূমিকা নেন শাহবাজ আহমেদ। নিজের স্পিনের জালে মহারাষ্ট্রের তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন তিনি। মহম্মদ কাইফ এবং সুরজ সিন্ধু জয়সওয়ালও একটি করে উইকেট তুলে নেন।
একটা সময় মনে হচ্ছিল, অল্প রানের মধ্যে মহারাষ্ট্রকে আটকে দিয়ে প্রথম ইনিংসের ঘাটতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিতে পারবে বাংলা। কিন্তু লাঞ্চের পর ছবিটা বদলে যায়। পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটেন তনয় সাঙ্ঘাভি ও রাজবর্ধন হাঙ্গারগেকার। বাংলার বোলারদের উপর চাপ বাড়িয়ে দু’জনে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করতে থাকেন। তাঁদের জুটি থেকে আসে ৪২ রান। শেষ উইকেটের আগে এই পার্টনারশিপই মহারাষ্ট্রকে লিড নেওয়ার জায়গায় পৌঁছে দেয়। বিশেষ করে শেষ উইকেটের জুটি ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয় বাংলার বোলারদের।
তনয় একদিকে উইকেট আগলে রেখে রান তোলার দায়িত্ব সামলান। অন্যদিকে হাঙ্গারগেকার তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন। ফলে দ্রুত ইনিংস শেষ করার সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলা। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দিনের খেলা বন্ধ হওয়ার সময় মহারাষ্ট্রের স্কোর ৯ উইকেটে ২০৪। অপরাজিত রয়েছেন তনয় সাঙ্ঘাভি। তাঁর সংগ্রহ ৫৭ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলার থেকে ৬১ রানে এগিয়ে রয়েছে মহারাষ্ট্র। ব্যবধান খুব বেশি না হলেও ম্যাচের পরিস্থিতি বিচার করলে এই লিড যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিন দুপুর ৩টে ১০ মিনিট নাগাদ চা বিরতি হয়। তার পর খারাপ আলোর কারণে আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে দিনের নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে। তৃতীয় দিন সকালে দ্রুত শেষ উইকেট তুলে নিয়ে মহারাষ্ট্রের ইনিংস শেষ করতে চাইবে বাংলা। প্রতিপক্ষকে যত কম রানে আটকে রাখা যাবে, ব্যাটারদের সামনে তত সহজ হবে লড়াইয়ের রাস্তা তৈরি করা।
তবে আসল চিন্তা বাংলার ব্যাটিং নিয়েই। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার অভাব বারবার সামনে এসেছে। ইডেনের পিচে ব্যাটিংয়ের জন্য খুব বেশি প্রতিকূল পরিস্থিতি ছিল না। তা সত্ত্বেও যেভাবে একের পর এক উইকেট পড়েছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে ব্যাটারদের প্রস্তুতি ও মানসিকতা নিয়ে। প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে পারে বাংলা।
এখনও অবশ্য লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। বাংলার বোলিং বিভাগে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মতো ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সেই লড়াইকে ফলপ্রসূ করতে হলে ব্যাটারদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। তৃতীয় দিন শুরু থেকেই সতর্ক অথচ ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে হবে অভিমন্যুদের। দ্রুত উইকেট হারানোর প্রবণতা কাটিয়ে বড় জুটি গড়াই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ। টানা চার জয়ের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে এই ম্যাচে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন প্রয়োজন বাংলার। এখন দেখার, বোলারদের লড়াইয়ের মর্যাদা দিয়ে ব্যাটাররা কি শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, নাকি ইডেনেই জয়ের দৌড়ে বড় ধাক্কা খায় লক্ষ্মীরতন শুক্লার দল।

