ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে জ্বলে ওঠার সুযোগ ছিল। প্রথমার্ধে দাপটও দেখাল ইস্টবেঙ্গল। একের পর এক আক্রমণ, গোলের সামনে একাধিক সুযোগ— সবই ছিল। কিন্তু গোলটাই এল না। উল্টে ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে জোড়া ধাক্কা। বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আল সিবের কাছে ০-২ গোলে হারল লাল-হলুদ। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় স্তরের গ্রুপ পর্বে এই হারে আরও কঠিন হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের পরের রাউন্ডে যাওয়ার অঙ্ক।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। চতুর্থ মিনিটে বিপিনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পাঁচ মিনিটের মাথায় দানিয়েল রামিরেজের বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ২০ মিনিটে গোলের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে। এডমুন্ডের শট আটকে দেন আল সিবের গোলরক্ষক ইব্রাহিম। ফিরতি বলে বিপিনের বাড়ানো বল থেকে অধিনায়ক রশিদ মাথা ছোঁয়ালেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। ৩৩ মিনিটে রামিরেজের দুরন্ত শটও বাঁচিয়ে দেন ইব্রাহিম। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে যাওয়ার মতো ফুটবল খেললেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি।
১৭ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন আনোয়ার আলি। তাঁর পরিবর্তে নামেন সন্দীপ মান্ডি। বিরতির পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় লাল-হলুদ। ৫৫ মিনিটে মান্ডির ক্রস থেকে এডমুন্ডের হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। ৬১ মিনিটে রামিরেজের শট দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচান ইব্রাহিম। ৬৩ মিনিটে এডমুন্ডের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৭৬ মিনিটে আল সিবের আলমালকির হেড বাঁচিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন গুরমিত লাচেনপা।
কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ৮৫ মিনিটে হাসানের ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মান্ডিকে কাটিয়ে জোরাল শটে গোল করেন মেয়ে। সংযুক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের কর্নার থেকে পাল্টা আক্রমণ তুলে দ্বিতীয় গোল আল সিবের। মেয়ের বাড়ানো বল ধরে জাহির বক্সে ঢুকে নিচু শটে বল জালে জড়ান। ০-২ ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইস্টবেঙ্গলকে।
এই হারের ফলে চার ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের সংগ্রহ মাত্র ২ পয়েন্ট। এখনও পর্যন্ত জয় অধরা। দু’টি ড্র এবং দু’টি হার নিয়ে গ্রুপ ডি-র চার নম্বরে নেমে গেল তারা। ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আল শর্টা, ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আল হুসেইন এবং ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আল সিব। গ্রুপের প্রথম দু’টি দল পরের পর্বে যাবে। ফলে শেষ দু’টি ম্যাচে জিতলেও অন্য দলের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে লাল-হলুদকে।
আক্রমণে সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারার পুরনো রোগই এ দিন ডোবাল ইস্টবেঙ্গলকে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে রামিরেজ, এডমুন্ড ও রশিদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারত। কিন্তু গোলের সুযোগ নষ্টের মাশুল শেষ পর্যন্ত দিতে হল অ্যান্টোনিও লোপেজ হাবাসের দলকে। এশীয় মঞ্চে টিকে থাকার লড়াইয়ে এখন প্রবল চাপের মুখে লাল-হলুদ।

