টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আইসিসির সেরা দলে মাত্র ৪ ভারতীয়

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করেছে টিম ইন্ডিয়া। চ্যাম্পিয়নের মতো খেলেই টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব জিতেছে ভারত। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছে সূর্যকুমার যাদবের দল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে হারলেও বাকি সব ম্যাচে দাপুটে ক্রিকেট খেলেছে ভারত। ব্যাটিং, বোলিং ও অলরাউন্ড পারফরম্যান্স—সব বিভাগেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।
তবে আশ্চর্যের বিষয়, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসি যখন টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করল, সেখানে ভারতের মাত্র চারজন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল হয়েও ভারত থেকে এত কম সংখ্যক ক্রিকেটারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে ক্রিকেটমহলে।
আইসিসির নির্বাচিত সেরা দলে পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবোয়ে এবং আমেরিকার ক্রিকেটাররাও জায়গা পেয়েছেন। পাকিস্তান এবং ইংল্যান্ড থেকে দু’জন করে ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকাও পেয়েছে দু’জন প্রতিনিধি। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবোয়ে ও পাকিস্তান থেকেও একজন করে ক্রিকেটার রয়েছেন এই দলে। দ্বাদশ ব্যক্তি হিসেবে রাখা হয়েছে আমেরিকার শ্যাডলি ভ্যান শ্যালউইককে।
ওপেনিং জুটিতে রাখা হয়েছে পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান এবং ভারতের সঞ্জু স্যামসনকে। এই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ফারহান। তিনি দুটি শতরান করে মোট ৩৮৩ রান সংগ্রহ করেছেন এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন। অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসনও নিজের সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন। দলে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই ভারতের ব্যাটিংয়ের গতি বদলে দেন তিনি। বিশেষ করে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে পরপর দুটি অর্ধশতরান করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। মাত্র পাঁচ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৩২১ রান।
ভারতের আরেক ওপেনার ঈশান কিষানও জায়গা পেয়েছেন এই দলে। টুর্নামেন্টে তাঁর সংগ্রহ ৩১৭ রান, যা তাঁকে সেরা একাদশে জায়গা করে দিতে সাহায্য করেছে। মিডল অর্ডারে রাখা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এডেন মার্করাম, ভারতের হার্দিক পাণ্ডিয়া, ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডারকে। এই চারজনই কার্যত অলরাউন্ডার—ব্যাটের পাশাপাশি বল হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
তবে ভারতের হয়ে ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও শিবম দুবে এবং অক্ষর প্যাটেলকে এই দলে রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
বোলিং বিভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের জশপ্রীত বুমরাহ। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই তিনি অসাধারণ বোলিং করেছেন এবং আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে বিশ্বের সেরা পেসারদের একজন বলা হয়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডি এবং জিম্বাবোয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি। স্পিন বিভাগে একমাত্র জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ।
তবে ভারতের বরুণ চক্রবর্তী কিংবা নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনারের মতো স্পিনারদের বাদ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্রিকেটবিশেষজ্ঞ মনে করছেন, টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে সেরা একাদশে জায়গা পাওয়ার দাবিদার ছিলেন তাঁরা। ফলে আইসিসির এই দল ঘোষণার পর থেকেই ক্রিকেট মহলে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − 1 =