নেপালে ভয়াবহ হড়পা বন্যায় বহু মানুষের মৃত্যু এবং অসংখ্য পরিবার সর্বস্ব হারানোর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। এই মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশের পাশাপাশি বিদেশের ফুটবল অঙ্গনেও দেখা গেল বিশেষ উদ্যোগ। কলকাতা ফুটবল লিগ থেকে শুরু করে স্পেনের লা লিগা সর্বত্রই ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানবিক মূল্যবোধের প্রকাশেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সোমবার কলকাতা ফুটবল লিগের তিনটি ম্যাচ শুরুর আগে নেপালের বন্যা দুর্গতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সেদিন ইউনাইটেড এসসি ও সুরুচি সংঘ, মেসার্স ক্লাব ও উয়াড়ি অ্যাথলেটিক ক্লাব, এবং কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স ও মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচে মাঠে নামার আগে খেলোয়াড়, কোচ, ম্যাচ অফিসিয়াল এবং উপস্থিত সকলেই এই নীরব শ্রদ্ধায় অংশ নেন। ফুটবলের মাধ্যমে এমন একটি বার্তা দেওয়া হয় যে, বিপদের সময়ে সীমান্ত বা দেশের বিভাজন নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
নেপালের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি, সম্পদ ও জীবিকার উৎস হারিয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে উদ্ধারকাজও নানা বাধার মুখে পড়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহানুভূতি এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা লিগের এই উদ্যোগও সেই আন্তর্জাতিক সংহতিরই একটি অংশ হিসেবে ধরা যায়।
শুধু ভারত নয়, ইউরোপের ফুটবল মঞ্চেও একই ছবি দেখা গেছে। স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং মালাগা নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করে। রবিবার সান্তিয়াগো বার্নাবেউ স্টেডিয়ামে লা লিগার ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দুই দলের ফুটবলাররা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন, যা শোক প্রকাশের একটি প্রচলিত প্রতীক। দর্শকরাও নীরবতার মাধ্যমে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রিয়াল মাদ্রিদ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একটি বার্তা প্রকাশ করে। সেখানে বন্যায় নিহতদের স্মরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। পাশাপাশি জানানো হয়, ক্লাব এই কঠিন সময়ে দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ক্লাবের এমন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্তরে মানবিক বার্তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
খেলার মাঠে এক মিনিটের নীরবতা হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করতে পারে না, কিন্তু এটি তাদের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা এবং সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এমন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। খেলাধুলা যে সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং মানবিক মূল্যবোধকে তুলে ধরার একটি শক্তিশালী মাধ্যম, এই ঘটনাগুলি আবারও তা প্রমাণ করল।

