চোট, সমালোচনা, সংশয় আর দীর্ঘ অপেক্ষা— সবকিছুর পর অবশেষে আবার ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে দেখা গেল নেইমারকে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু একটি বদলি নামা নয়, বরং ছিল হার না মানা এক ফুটবলারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
ম্যাচের আগে আবেগঘন এক বার্তা দেন নেইমার সিনিয়র। গত বছর কিংস লিগ ফাইনালে ছেলেকে বলা নিজের কথাগুলো আবার সামনে আনেন তিনি— ‘দৌড়াও, নিজেকে নিংড়ে দাও। এমনভাবে দৌড়াও, যেন এটাই তোমার জীবনের শেষ দিন।’ সেই বার্তাই যেন মায়ামিতে নতুন করে প্রাণ জোগায় নেইমারকে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শেষবার জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘ চোট তাঁকে মাঠের বাইরে ছিটকে দেয়। বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে পর্যন্ত ব্রাজিলে আলোচনা চলেছে একটাই— পূর্ণ ফিট নন, তবু কি দলে জায়গা পাবেন নেইমার? শেষ পর্যন্ত কার্লো আনচেলত্তি আস্থা রেখেছিলেন তাঁর ওপর।
সেই আস্থার প্রতিদান দিতে ৭৬ মিনিটে মাঠে নামেন নেইমার। গোলদাতা মাতেউস কুনিয়াকে তুলে তাঁকে খেলান আনচেলত্তি। বদলির সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর কুনিয়ার উচ্ছ্বাসই বুঝিয়ে দেয়, ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে নেইমারের গুরুত্ব কতটা। ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার মুহূর্তটি তাই হয়ে ওঠে বিশেষ।
খেলার সময় খুব বেশি না পেলেও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেন নেইমার। কর্নার নেওয়া থেকে শুরু করে আক্রমণের ছন্দ তৈরিতে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। ভিনিসিয়াস জুনিয়র বলেন, এটি ছিল তাঁদের আদর্শের ফিরে আসা।
নেইমারের লড়াইয়ের গল্পটাও কম বিস্ময়কর নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার হুয়ান জুনিগার আঘাতের পর থেকে ৬টি বড় চোটের ধাক্কা সামলেছেন তিনি। অনেকের কেরিয়ার যেখানে শেষ হয়ে যেত, সেখানে নেইমার ফিরে এসেছেন বিশ্বকাপের মঞ্চেই।
এই প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী ছিলেন মেয়ে মাভি, মা ব্রুনা বিয়ানকার্দি, রোনাল্ডো নাজারিও, রোনাল্ডিনিও, কাফু এবং রবার্তো কার্লোস। মাভির টি-শার্টে লেখা ছিল ‘১০০ শতাংশ যিশুর’। ম্যাচ শেষে আবেগ সামলাতে না পেরে কেঁদে ফেলেন নেইমার।
থিয়েরি অঁরি বলেছেন, নেইমার মাঠে নামার পরই ম্যাচ বদলে যায়। আর আনচেলত্তির চোখে ৩৪ বছর বয়সি এই তারকার ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এখনও কিশোরের মতোই নির্মল। নেইমার নিজেও বলেছেন, ব্রাজিলের জার্সি পরে বিশ্বকাপে খেলাই ছিল তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এবার অপেক্ষা, মাঠে তাঁর জাদুর পরবর্তী অধ্যায়ের।

