কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে অবশেষে ইউক্রেন থেকে বাড়ি ফিরল মেডিক্যালের ছাত্রী মৌমি

মাইনাস ৫ ডিগ্রি বরফাচ্ছন্ন পরিবেশের মধ্যে একটানা ১২ দিন হস্টেলের বাঙ্কারে কেটেছে। হস্টেলের ছাদে পড়েছে বোমা। বাঁচার কোনও আশা ছিল না। এরপর কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনের খারকিভ শহর থেকে কোনওরকমে রোমানিয়া সীমান্তে পৌঁছন মালদার চিকিৎসক পড়ুয়া মৌমি সিংহ ভিনদেশের সহপাঠীরা। আর তারপর সেখান থেকেই ভারত সরকারের উদ্যোগে অবশেষে মালদার বাড়িতে ফিরেছেন সিংহ পরিবারের একমাত্র চিকিৎসক পড়ুয়া ছাত্রী মৌমি সিংহ। রবিবার দমদম বিমানবন্দরে নামে। এরপর সে রাতে কলকাতা থেকেই ট্রেনে করে সোমবার সকালে ফিরেছেন মালদা শহরের মালঞ্চপল্লি এলাকার বাড়িতে। একমাত্র মেয়েকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের লোকেরা। বাড়িতে বসেই বাবা-মায়ের সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের গল্প বলতে গিয়ে চরম আতঙ্কের সুর ভেসে আসে ওই চিকিৎসক পড়ুয়া ছাত্রীর মুখ থেকে।

উল্লেখ্য, মালদা শহরের মালঞ্চপল্লি এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ কুমার সিংহ, পেশায় ব্যবসায়ী। তার স্ত্রী মিতা সিংহ গৃহবধূ। আর ওই দম্পতির একমাত্র মেয়ে মৌমি সিংহ। দু’বছর আগে ইউক্রেনে খারকিভ ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন মৌমি।

ওই ছাত্রীর মা মিতা সিংহ জানিয়েছেন, মেয়ে বাড়িতে  ফিরে আসায় খুব খুশি তারা। মৌমি জানিয়েছেন, প্রতিদিন বোমার শধ কানে আসত। আতঙ্কের মধ্যে ঘুম আসত না। খাবারের অভাব, পানীয় জলের অভাব, তো ছিলই। বুঝতে পারছিলাম না এখান থেকে কিভাবে বাড়ি ফিরব। একসময় খারকিভ খালি করার নির্দেশ আসে। মাইনাস ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা উপেক্ষা করে প্রায় ১২ দিন হস্টেলের বাঙ্কারে সহপাঠীদের সঙ্গে কাটিয়েছি। দেশে ফেরার তাগিদে অবশেষে অন্যান্য সহপাঠীদের সঙ্গে প্রায় ১৪ কিলোমিটার হেঁটে ইউক্রেনের পিসোচীন শহরে এসেছিলাম। কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের একটা শিবিরে রাখে। সেখানে দিন কয়েক থাকার পর তারাই বাসে করে রোমানিয়া সীমান্তে পৌঁছে দেয়। রোমানিয়া পৌঁছনোর পর আমাদের আর কোনও অসুবিধা হয়নি। ভারতীয় দূতাবাস থেকে আমাদের খাবারের ব্যবস্থা, গরম পোশাক সবই করা হয়। পরে আমাদের ভারতীয় বিমানে তুলে দিল্লি পৌঁছে দেওয়া হয়। তারপর সেখান থেকে কলকাতায় বিমানে ফিরি। অবশেষে মালদার বাড়িতে ফিরতে পেরেছি।

ইউক্রেন থেকে বাড়ি ফিরে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন মৌমি। ওই ছাত্রী বলেন যুদ্ধের কথা বইয়ে পড়েছি সিনেমায় দেখেছি। তবে এবারে এই প্রথম চরম অভিজ্ঞতা হল যুদ্ধ পরিস্থিতি চোখের সামনে দেখি ভাবতেই পারিনি নতুনভাবে জীবন ফিরে পাব। তবে ডাক্তারি পড়াটার কোথায় এবং কিভাবে শেষ করবেন তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন ওই চিকিৎসক পড়ুয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − 4 =