আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ফুটবলের অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে দুই প্রাক্তন ফুটবল ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবনের জন্য ফুটবল থেকে নির্বাসিত করল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। শুধু নির্বাসন নয়, দু’জনের উপরেই চাপানো হয়েছে বিপুল অঙ্কের জরিমানা।
শাস্তির কোপে পড়েছেন মালদ্বীপ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি বাসাম আদিল জালিল এবং মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি ভিনসেন্ট ক্যাসেল। ফিফা-র নৈতিকতা সংক্রান্ত তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
জালিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও বিস্ফোরক। করোনা অতিমারির সময় ফুটবলকে আর্থিক বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে ফিফা যে কোভিড রিলিফ প্ল্যান চালু করেছিল, সেই তহবিলের অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তে উঠে আসে, ফুটবলের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। মালদ্বীপে এই আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে আইনি পদক্ষেপও হয়েছিল এবং জালিলকে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ফিফা-র শাস্তিতে জালিলের ফুটবলজীবন কার্যত সেখানেই শেষ। তাঁকে আজীবন ফুটবল সংক্রান্ত সমস্ত কার্যকলাপ থেকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ১০ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রশাসনের চেয়ারে বসে যে অর্থের পাহারা দেওয়ার কথা, সেই অর্থ নিয়েই অনিয়মের অভিযোগ— শেষে সেই চেয়ারই হয়ে উঠল তাঁর নির্বাসনের কারণ।
তবে ঘটনা শুধু জালিলকে ঘিরে নয়। একই সঙ্গে শাস্তি পেয়েছেন মালদ্বীপ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন ফিনান্স ডিরেক্টর মোহামেদ আগিল। ফিফা তাঁকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে এবং জরিমানা করেছে ১ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ। তদন্তে অর্থের অপব্যবহার আড়াল করা, জাল নথি ব্যবহার এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার মতো অভিযোগ সামনে এসেছে।
ক্যাসেলের সঙ্গে শাস্তি পেয়েছেন মন্টসেরাট ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন জেনারেল সেক্রেটারি ট্যান্ডিকা হিউজ। তাঁর উপর নেমে এসেছে ১৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং ১.৫ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা।

