জয়নগর থেকে রামমন্দির নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ মমতার

রামমন্দিরের উদ্বোধনকে বিজেপির লোকসভা ভোটের গিমিক বলে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার জয়নগর-১ ব্লকের বহড়ু উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে সরকারি প্রকল্প উদ্বোধনের কর্মসূচিতে এমনটাই বলেন তিনি। পাশাপাশি, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির সরকারকে এজেন্সির সরকার বলেও খোঁচা দিলেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কালকে আমায় জিজ্ঞাসা করছিল রামমন্দির নিয়ে আপনার কী বক্তব্য? আমার যেন আর কোনও কাজ নেই। এই একটাই কাজ। আমি বললাম ধর্ম যার যার, উৎসব কিন্তু সবার। আমি সেই উৎসবে বিশ্বাস করি, যে উৎসব সবাইকে নিয়ে চলে। সবাইকে নিয়ে কথা বলে। একতার কথা বলে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা করছেন করুন না, কে আপত্তি করেছে? আপনারা কোর্টের আন্ডারে করছেন। ইলেকশনের আগে একটা গিমিক শো করবেন বলে। আমার কোনও আপত্তি নেই তো! কিন্তু তা বলে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে অবহেলা করা, এটা কারও কাজ নয়।’

বিজেপির বিরুদ্ধে বিভেদের রাজনীতির ও ইডি-সিবিআইয়ের ব্যবহারের অভিযোগ এনে মমতা বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস যত দিন থাকবে, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার যত দিন থাকবে, আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা করে যাচ্ছি, আমি আপনাদের কাছে শপথ করে বলছি, আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, আমি কোনও দিনও হিন্দু, মুসলমান, শিখ, খ্রিস্টান, তপশিলি আদিবাসীদের ভাগাভাগি করতে দেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এনআরসির সময় দেখেছেন কী আন্দোলন করেছিলাম। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সিএএ-এর সময় কী আন্দোলন করেছিলাম, দেখেছেন। এখন অনেক অত্যাচার আমাদের লোকেদের ওপর হচ্ছে, গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া চলছে যেন একটা এজেন্সির সরকার। ইঁদুর-চামচিকিরা যে ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে আপনার অর্জিত পয়সা লুট করে নিয়ে যাবে। সিজার লিস্টও পাবেন না। মুখ্যসচিবকে জানতে চাইব, বগটুইতে যে জিনিসপত্র নিয়েছিল সিবিআই, সেগুলি কি ফেরত পাওয়া গিয়েছে?’

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গত কয়েক মাসে বেশ কিছু খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘ভাঙড়, বজবজ, মেটিয়াবুরুজ আমার পরিচিত। এই জায়গাগুলোতে কিছু ভাড়াটিয়া গুন্ডা দিয়ে কয়েক দিন আগে কিছু মানুষকে মেরে ফেলা হয়েছে। আগে ভাড়াটিয়া খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। প্রশাসনকে বলব কড়া হতে। এত টাকা পায় কোথা থেকে? মানুষ খেতে না পেলে পাঁচ টাকা দেয় না। আর মানুষ মারতে ১৩ লক্ষ, ১৫ লক্ষ টাকা খরচ করে অন্য জায়গা থেকে গুন্ডা আমদানি করবে এটা হবে না। খুনখারাপি করবে, এটা হবে না। বাংলা শান্তির জায়গা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *