মালদার বিখ্যাত রসকদম্ব মিষ্টিকে জিআই তকমার দাবি!

মালদা: অনেকটা কদমফুল আকৃতির মিষ্টি মালদার রস কদম্ব। একসময় নবাব থেকে ব্রিটিশদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল মালদার রসকদম্ব। কথিত আছে যে, স্বাধীনতার আগে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মালদায় এসে অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তি এই মিষ্টির স্বাদ গ্রহণ করে গিয়েছেন। প্রাচীনকালের এই মিষ্টি আজও মানুষের কাছে স্বাদে ও গুনে ভরপুর রয়েছে। সেই রসকদম্ব মিষ্টিকেই জিআই তকমার দাবি জানিয়েছেন মালদার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী মহল। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংগঠন থেকে প্রশাসনের কাছেও এই মিষ্টির জিআই তকমা দেওয়া হোক বলে দাবি জানিয়েও আবেদন জানানো হয়েছে।

মালদা জেলা মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতির এক সদস্য রাজীব দাস বলেন, এই মিষ্টি মালদার জনপ্রিয়। মূলত পোস্ত ব্যবহার করে এবং ক্ষীরের প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হয় রসকদম্ব। শুধু এই রাজ্যই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিদেশেও এই মিষ্টি নিয়ে যান অনেকেই। প্রসিদ্ধই এই মিষ্টিকে যাতে জিআই তকমা দেওয়া হয়, সেই দাবি আমরা প্রশাসনের কাছে করেছি।

বলাবাহুল্য, দেখতে ঠিক কদম ফুলের মতো। এই মিষ্টির নামের সঙ্গেও কদম যোগ রয়েছে। আর পাঁচটা মিষ্টির থেকে এই মিষ্টির স্বাদ সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ একটি মিষ্টির মধ্যেই তিন রকম মিষ্টির স্বাদ পাওয়া যায়। রসগোল্লা, ক্ষীর ও চিনি একটির মধ্যেই তিনটি মিষ্টির আলাদা আলাদা স্বাদ পাওয়া যায় রসকদম্বে। তাই তো রসকদম্বের চাহিদা গোটা দেশ জুড়ে। শুকনো এই মিষ্টি এক সপ্তাহ রেখে খাওয়া যায়। মালদা জেলা জুড়ে এই মিষ্টি পাওয়া যায়। আকার অনুযায়ী মিষ্টির দাম। ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা পিস হিসাবে বিক্রি হচ্ছে বর্তমান বাজারে। রসকদম্বের জন্য মালদা জেলার খ্যাতি ছড়িয়েছে দেশ থেকে বিদেশেও।

ইংরেজবাজার শহরের মধ্যমপুর এলাকার মিষ্টি ব্যবসায়ী গৌড় দাস জানিয়েছেন, এই মিষ্টি তৈরির পদ্ধতিও একটু অন্যরকম। প্রথমে ছানার রসগোল্লা তৈরি করা হয়। তবে এই রসগোল্লার আকার অনেক ছোট হয়। একদিন রসে ডুবিয়ে রাখা হয়। তারপর ক্ষীর ও চিনি দিয়ে পাক তৈরি করা হয়। রসগোল্লার ওপরে ক্ষীরের মোটা আস্তরণ দিয়ে গোলাকার তৈরি করা হয়। তার উপরে দেওয়া হয় পোস্ত। বিশেষ পদ্ধতিতে পোস্তর উপর চিনির আস্তরণ তৈরি করা হয়। পরে পোস্ত দেওয়া হয়। এখন অনেকেই সরাসরি পোস্তর দানা উপরে দিয়ে থাকে। এই ভাবেই তৈরি হয় রসকদম্ব। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় বিশেষ মিষ্টি পাওয়া যায়। মালদা জেলার রসকদম্ব সেই তালিকায় রয়েছে।

মালদা জেলা, মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক উত্তম বাসাক জানিয়েছেন, রসকদম্বের জন্যই মিষ্টি প্রেমীদের কাছে বিখ্যাত মালদা জেলা। মিষ্টি ব্যবসায়ীরা যে দাবি করেছেন তা সঠিক। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশ কিছু কারিগরি শিল্পের ওপর জিআই তকমা দিচ্ছে সরকার। আমরাও চাই মালদার বিখ্যাত রসকদম্বের জিআই তকমা দেওয়া হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *