কলকাতা : পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। শুক্রবার তৃণমূল নেতা মদন মিত্রের স্ত্রী অর্চনা মিত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছোট ছেলে শুভরূপ মিত্র।
সকাল ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ ইডি দফতরে পৌঁছান অর্চনা মিত্র। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে, হাত জোর করে তিনি সোজা দফতরের ভেতরে চলে যান।
এই মামলায় ইডি মদন মিত্রের পরিবারের চার সদস্যকে পৃথক দিনে তলব করেছে। বুধবার ছোট ছেলে শুভরূপ মিত্রকে প্রায় নয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ইডির সামনে হাজিরা দেন বড় ছেলে স্বরূপ মিত্র। এদিকে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ২৯ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।
ইডির অভিযোগ, টিটাগড় পুরসভায় নগদ টাকা এবং সোনার বিনিময়ে অন্তত ১২৫ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই মদন মিত্রের নাম সামনে আসে। গত ১৩ জুন ইডি তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় এবং তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে ব্যাংক সংক্রান্ত নথিপত্রসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুরসভায় নিয়োগের বিনিময়ে কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তদন্তকারী সংস্থা মূলত তা স্পষ্ট করতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, কেবল ইডি নয়, গত বছরের অক্টোবরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-ও পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের বাসভবনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়েছিল।
এদিকে, গত সপ্তাহে স্ত্রী ও দুই ছেলের কাছে ইডির সমন পৌঁছানোর পর মদন মিত্র তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনাও করেন।
প্রসঙ্গত, এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই ইডি প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে আগেই গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই সুজিত বসু ও তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে।

