বোলারদের দাপটে ঘরের মাঠে বিধ্বস্ত লখনউ !  ৪০ রানে জিতে স্বস্তিতে রাজস্থান

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই সাধারণত ব্যাটারদের উৎসব। চার-ছক্কার ঝড়, বড় রান, উত্তেজনায় ভরা ম্যাচ—এই চেনা ছবিই দেখা যায় বেশিরভাগ সময়ে। কিন্তু বুধবারের লখনউ সুপার জায়ান্টস ও রাজস্থান রয়্যালস ম্যাচ সেই প্রচলিত ধারণাকে পুরো বদলে দিল। এখানে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য ছিল বোলারদের। ব্যাটারদের জন্য রান তোলা ছিল কঠিন কাজ। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত বোলিংয়ের জোরে ৪০ রানে জয় তুলে নেয় রাজস্থান।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। শুরুতে রাজস্থানের ব্যাটাররা কিছুটা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেললেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মহম্মদ শামি। নিজের ওভারের শেষ দুই বলে তিনি ফিরিয়ে দেন যশস্বী জয়সওয়াল ও ধ্রুব জুরেলকে। যশস্বী ২২ রান করলেও জুরেল খাতা খুলতে পারেননি। পরের ওভারে মহসিন খান বৈভব সূর্যবংশীকেও আউট করে দেন। মাত্র কয়েক বলের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজস্থান।
এই কঠিন সময়ে দলকে সামলানোর দায়িত্ব নেন অধিনায়ক রিয়ান পরাগ ও শিমরন হেটমেয়ার। তবে লখনউয়ের বোলাররা এতটাই নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে বল করছিলেন যে সহজে রান পাওয়া যাচ্ছিল না। রিয়ান ২০ রান করে আউট হন, হেটমেয়ারও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। পরে রবীন্দ্র জাডেজা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি ২৯ বলে অপরাজিত ৪৩ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছয়। শেষ দিকে শুভমন দুবে ১১ বলে ১৯ রান যোগ করায় রাজস্থান ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৯ রান তোলে।
লখনউয়ের হয়ে শামি চার ওভারে ৩০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। মহসিন খানও সমান কার্যকর ছিলেন, তিনি ১৭ রানে ২ উইকেট পান। প্রিন্স যাদব নেন আরও দুটি উইকেট। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে ফেরা ময়াঙ্ক যাদব খুব একটা সফল হতে পারেননি।
১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লখনউ শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে। মাত্র ১১ রানের মধ্যে আয়ুষ বাদোনি, ঋষভ পন্থ ও এডেন মার্করামের উইকেট হারায় তারা। তিনজনের কেউই উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেননি। এরপর মিচেল মার্শ ও নিকোলাস পুরান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুরান ধীরগতিতে ২২ রান করে আউট হলে চাপ আরও বাড়ে।
মার্শ একপ্রান্ত ধরে রেখে লড়াই চালান। তিনি ৪১ বলে ৫৫ রান করেন, যেখানে ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছয়। কিন্তু তাঁর আউট হওয়ার পর লখনউয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। নিচের সারির ব্যাটাররা কেউই বড় অবদান রাখতে পারেননি। নিয়মরক্ষার মতো ব্যাটিং করে একে একে সবাই ফিরে যান।
শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১১৯ রানে গুটিয়ে যায় লখনউয়ের ইনিংস। ফলে ৪০ রানের দারুণ জয় পায় রাজস্থান রয়্যালস। টানা দুই ম্যাচ হারের পর এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়াবে। অন্যদিকে লখনউকে ভাবতে হবে ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে। এই ম্যাচে পরিষ্কার প্রমাণ মিলল, টি-টোয়েন্টিতেও ভালো বোলিং ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 1 =