পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ লিয়েন্ডার পেজের

কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। শনিবার সল্টলেকে বিজেপির পার্টি অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন যে, রাজ্যে এখনও পর্যাপ্ত আধুনিক সুবিধা নেই, বিশেষ করে ইনডোর টেনিস কোর্টের অভাব রয়েছে। ডেভিস কাপের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য অস্থায়ী পরিকাঠামো তৈরি করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্রীড়া উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন যে কলকাতা তাঁর জন্মভূমি এবং এখান থেকেই তাঁর ক্রীড়া জীবনের শুরু। সাউথ ক্লাব ও সিসিএফসি থেকে শুরু করে কলকাতার ময়দান তাঁকে দেশপ্রেম, সংগ্রাম এবং শৃঙ্খলার শিক্ষা দিয়েছে। তিনি বলেন, গত ৪০ বছর ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের সম্মান বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা।

তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গ ক্রীড়াক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও গত কয়েক দশকে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়নি। অলিম্পিক পদক জয়ের ক্ষেত্রে রাজ্যের অবদান সীমিত হয়ে পড়েছে, যা ক্রীড়া নীতির পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

লিয়েন্ডার পেজ বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজ ও ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি জানান যে তাঁর লক্ষ্য হলো খেলাধুলার মাধ্যমে যুবকদের ক্ষমতায়ন করা এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যাতে রাজ্যের তরুণরা কাজের খোঁজে বাইরে যেতে বাধ্য না হয়।

তিনি বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ক্রীড়া উন্নয়ন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাঁর লক্ষ্য ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ভারতে আয়োজন করা এবং দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা।

তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, বহু প্রতিভাবান যুবক-যুবতী রাজ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি ক্রীড়া শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটানোর ওপর জোর দেন।

সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে একটি নতুন ক্ষেত্র হলেও দেশসেবার লক্ষ্য একই রয়েছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, সকলের সহযোগিতায় ক্রীড়া ও যুব উন্নয়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =