জাতীয় দলের রাডারে লক্ষ্মীরতন, এবার ঋষভদের সামলানোর দায়িত্ব বাংলার কোচের 

বাংলার ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ব্যাট হাতে নেতৃত্ব দেওয়ার পর এখন কোচ হিসেবে নতুন পরিচয় তৈরি করেছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। বাংলার দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি এবার তাঁর সামনে খুলে গেল জাতীয় ক্রিকেটের দরজাও। সরাসরি ভারতীয় দলের কোচিং স্টাফে নয়, তবে ইরানি ট্রফির মঞ্চে জাতীয় দলের একাধিক তারকা ক্রিকেটারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। এই দায়িত্ব নিঃসন্দেহে লক্ষ্মীরতনের কোচিং জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ইরানি ট্রফি। পাঁচ দিনের এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে রনজি ট্রফির চ্যাম্পিয়ন জম্মু-কাশ্মীর এবং অবশিষ্ট ভারত। এবারের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে। ঘরের মাঠে রনজি ট্রফি জেতা জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে শক্তিশালী দল নিয়েই নামছে অবশিষ্ট ভারত।
অবশিষ্ট ভারতীয় দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঋষভ পন্থকে। সহ-অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন সরফরাজ খান। দলে জায়গা পেয়েছেন বাংলার তিন ক্রিকেটার—সুদীপ ঘরামি, মুকেশ কুমার এবং আকাশ দীপ। তবে আকাশের খেলা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। চোট কাটিয়ে তিনি ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় রয়েছেন কি না, তা ফিটনেস পরীক্ষার পরই পরিষ্কার হবে।
এই দলটির ব্যাটিং কোচ হিসেবে লক্ষ্মীরতনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বোলিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় পেসার দেবাশিস মোহান্তি। অর্থাৎ কয়েক দিনের জন্য হলেও দেশের সেরা ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলার বর্তমান কোচ।
খেলোয়াড় হিসেবে লক্ষ্মীরতনের ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় অবশ্য নতুন নয়। বাংলার হয়ে দীর্ঘদিন খেলার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। অবসরের পর কোচিংকেই বেছে নেন। বাংলার বয়সভিত্তিক দল থেকে শুরু করে সিনিয়র দলের দায়িত্ব ধাপে ধাপে নিজের কোচিং দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর অধীনে বাংলা দলও ঘরোয়া ক্রিকেটে একাধিকবার প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স করেছে।
এর আগে ভারতীয় ক্রিকেটের কোচিং কাঠামোয় আরও এক প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারের উত্থান দেখা গিয়েছে। লক্ষ্মীপতি বালাজিকে সম্প্রতি ভারত ‘এ’ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের ভারত সফরে ভারত ‘এ’ দলের দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। তাঁর কোচিংয়ে ভারত ‘এ’ দল দু’টি বহুদিনের ম্যাচ এবং তিনটি এক দিনের ম্যাচ খেলবে। বেঙ্গালুরুর বিসিসিআই সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে চলতি বছরের শুরুতে কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বালাজি।
এবার সেই তালিকায় নিজের নাম আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ লক্ষ্মীরতনের সামনে। যদিও ইরানি ট্রফির দায়িত্ব স্বল্পমেয়াদি, তবু জাতীয় দলের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ কোচিং কাঠামোয় কাজের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঋষভ, সরফরাজদের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে নিজের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ থাকছে তাঁর।
২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের পর ভারতীয় দলের বর্তমান কোচিং স্টাফের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। এরপর জাতীয় দলের কোচিং কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ক্রিকেটমহলে আলোচনা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা কোচদের পারফরম্যান্সও নজরে আসতে পারে।
তবে আপাতত জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার থেকে লক্ষ্মীরতনের সামনে তাৎক্ষণিক লক্ষ্য ইরানি ট্রফি। ৫ অক্টোবর ম্যাচ শেষ হলে ফের বাংলার দায়িত্বে ফিরবেন তিনি। কারণ ১১ অক্টোবর থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে রনজি ট্রফি। প্রথম ম্যাচেই বাংলার প্রতিপক্ষ দিল্লি। অর্থাৎ শ্রীনগরের জাতীয় স্তরের দায়িত্ব শেষ করেই ফের বাংলার ক্রিকেটের ব্যস্ততায় ডুব দিতে হবে লক্ষ্মীরতনকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 4 =