রবিবারের যুবভারতীতে ছিল আইএসএলের অঘোষিত ফাইনাল। শুরু থেকেই দু’দলের খেলায় বড় ম্যাচের আমেজ স্পষ্ট। তবে ভরা যুবভারতীর গ্যালারিতে অসংখ্য সুযোগ নষ্ট করল দুই দল। ডার্বির মতো বড় ম্যাচের চাপ নিয়ে ফাইনাল থার্ডে এসে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারছিলেন না বিপিন-সাহালরা। এই বড় ম্যাচ দেখতে তারকার মেলা যুবভারতীর ভিআইপি বক্সে। এসেছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে এসেছিলেন লখনউ সুপারজায়ান্টের সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। এই ডার্বি ১-১ গোলের ব্যবধানে ড্রয়ে শেষ হল। ৮৮ মিনিটে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। ম্যাচের একেবারে শেষ মূহুর্তে ৯০ মিনিটে বাগানকে সমতায় ফেরালেন অসি তারকা স্ট্রাইকার জেসন কামিংস।
ম্যাচের চার মিনিটের মধ্যেই আক্রমণে মোহনবাগান। অধিনায়ক শুভাশিস বোস আক্রমণে উঠে ক্রস বাড়িয়ে দেন সাহাল আব্দুল সামাদকে। কেরালিয়ান মিডফিল্ডার ঠিক মতো শট নিলে এগিয়ে যেতে পারত মোহনবাগান। ৬ মিনিটে বিষ্ণু আক্রমণে উঠার চেষ্টা করলে অভিষেক সিং টেকচাম দুর্দান্ত ট্যাকল করে আটকে দেন। ১০ মিনিটে আনোয়ার আলিকে কাটিয়ে ডানদিক থেকে এগিয়ে যান মনবীর সিং। বল বাড়িয়ে দেন সাহালের উদ্দেশ্যে। তবে শট নিতে ব্যর্থ তিনি। ১৪ মিনিটে খেলার বিপরীতে গিয়ে আক্রমণে ওঠেন ইস্টবেঙ্গলের অ্যান্টন সজবার্গ। অভিষেকের ব্যাকপাস থেকে বক্সের কোণা থেকে অ্যান্টনের শট বারপোস্টে আঘাত করে। ২১ মিনিটে বিপিনের সুযোগ নষ্ট, শট ব্লক করে দেন মোহনবাগানের স্প্যানিশ ডিফেন্ডার আলবার্তো রদ্রিগেজ। ২৪ মিনিটে আবারও সাহালের শট, এবার বাঁচিয়ে দিলেন গিল। পর মূহুর্তেই অ্যান্টকে ধাক্কা দেওয়ায় রেফারি হলুদ কার্ড দেখালেন আলবার্তোকে। চারটে হলুদ কার্ড হওয়ায় স্পোর্টিং দিল্লির বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। ৩৭ মিনিটে জায়গায় ছিলেন না বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ, ফাঁকা গোল পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ অ্যান্টন সজবার্গ। শেষমেশ বিশালের মুঠোয় চলে আসে বল। প্রথমার্ধ শেষ হয় ০-০ ব্যবধানে। অসংখ্য সুযোগ নষ্ট দুইপক্ষের।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই সু্যোগ নষ্টের খেলা অব্যাহত। ৫৭ মিনিটে জিকসন ফাউল করেন আপুইয়াকে। ফ্রি-কিকের নির্দেশ রেফারির। তবে লিস্টন কোলাসোর ফ্রি-কিক কাজে আসল না। ৬৮ মিনিটে সাহাল আব্দুল সামাদকে তুলে নামলেন বাগান জনতার ভরসা দিমিত্রি পেত্রাতোস। হয়তো তিনি শেষবারের মতো ডার্বি খেলতে নামলেন সবুজ-মেরুন জার্সিতে। গ্যালারিতে উন্মাদনা থাকলেও এই ফর্মের দিমিকে ভরসা করতে পারছিলেন না সমর্থকরা। ৮৫ মিনিটে এডমুন্ড লালরিনডিকার গোলে এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। মিগুয়েলের দুর্দান্ত পাস থেকে এডমুন্ডের শট বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথকে পার করে জালে জড়িয়ে যায়। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গোল শোধ করল মোহনবাগান। পরিবর্ত হিসেবে নামা জেসন কামিংস দিমিত্রি পেত্রাতোসের কর্ণার থেকে গোল করে বাগানকে সমতায় ফেরালেন। ৮০ মিনিটেই কোচ সের্জিও লোবেরা শেষ চাল দেন। এদিকে ডার্বি ১-১ ড্র হওয়ায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় ইস্টবেঙ্গল। কারণ পয়েন্টের বিচারে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সমান হলেও গোল পার্থক্যের বিচারে এগিয়ে রয়েছে অস্কার ব্রুঁজোর ইস্টবেঙ্গল। চিন্তায় থাকবেন মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা। শেষ ম্যাচ দুই প্রধান জিতলেও গোলপার্থ্যকের বিচারে এগিয়ে থাকবে ইস্টবেঙ্গল। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে স্পোর্টিং দিল্লিকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে লোবেরার দলকে। এদিকে ম্যাচ শেষে অসুস্থ ইস্টবেঙ্গলের বিপিন সিং। অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।

