দলীপ ফাইনালে ঈশানের ২৭০ রানের ঝড়, পূর্বাঞ্চলের রানের পাহাড়

চেন্নাইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে দলীপ ট্রফির ফাইনালে ব্যাট হাতে কার্যত একাই ম্যাচের রং বদলে দিলেন পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক ঈশান কিষান। দক্ষিণাঞ্চলের বোলারদের দাপটকে উড়িয়ে দিয়ে তাঁর ২৭০ রানের দুরন্ত ইনিংসে পূর্বাঞ্চলের স্কোর পৌঁছে গেল ৭০৮ রানে। একই সঙ্গে দলীপ ফাইনালের ইতিহাসে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে দ্বিশতরান করার নজির গড়লেন তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটার।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পূর্বাঞ্চল। শুরুতেই বৈভব সূর্যবংশী ও অভিমন্যু ঈশ্বরণের ব্যাটে ভাল ভিত তৈরি হয়। তাঁদের জুটিতে দলীয় রান ১০০ পার করে। ৩৭ বলে ৪৪ রান করে ফিরে যান বৈভব। অভিমন্যু ৮৬ বলে ৭২ রান করেন। শিখর মোহনও গুরুত্বপূর্ণ ৮৫ রান যোগ করেন। তবে সুদীপ কুমার ঘরামি ব্যর্থ হলেও ঈশান ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
প্রথম দিনের শেষে ১৩৫ বলে ১১১ রান করে অপরাজিত ছিলেন ঈশান। দ্বিতীয় দিনে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে তাঁর ব্যাট। মহম্মদ সিরাজ-সহ দক্ষিণাঞ্চলের বোলারদের সাবলীলভাবে সামলে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। খারাপ বল পেলেই সীমানার বাইরে পাঠিয়েছেন, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী ধৈর্য ধরেও ইনিংস গড়েছেন। কুমার কুশাগ্রও শতরান করে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন।
শেষ পর্যন্ত ৩৩৪ বলে ২৭০ রান করে ত্রিপুরানা বিজয়ের বলে আউট হন ঈশান। তাঁর ইনিংসে ছিল ৩০টি চার ও ৭টি ছক্কা। মাঝখানে কিছু সময়ের জন্য মাঠের বাইরে গেলেও ফিরে এসে দলের রান আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ের সৌজন্যেই পূর্বাঞ্চল বিশাল রানের পাহাড় গড়ে তোলে।
দলীপ ফাইনালের ইতিহাসে এর আগে রমন লাম্বা, অংশুমান গায়কোয়াড, চেতেশ্বর পূজারা এবং যশস্বী জয়সওয়াল দ্বিশতরান করেছিলেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল ঈশানের নাম।
এই ইনিংসের পরই স্বাভাবিকভাবে নতুন প্রশ্ন উঠছে, এবার কি টেস্ট দলের দরজাও খুলতে চলেছে ঈশানের সামনে? ঋষভ পন্থ ও ধ্রুব জুরেলের মতো উইকেটকিপার-ব্যাটাররা দলে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ঈশানের দাবিকে জোরাল করল। টি-টোয়েন্টির মতো বেপরোয়া না হয়ে দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, লাল বলের ক্রিকেটেও নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের জেরেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। এবার দলীপ ফাইনালের ২৭০ রানের ইনিংস জাতীয় দলে ফেরার দাবিকে আরও জোরাল করে তুলল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × one =