চোট, লড়াই আর স্বপ্ন! এশিয়ান গেমসের সোনার মঞ্চে শুটার সুরুচি-কমলজিৎ

একজন শুটিংয়ে এসেছিলেন মাত্র ১৩ বছর বয়সে, অন্যজন চোটের কারণে অ্যাথলেটিক্স ছাড়ার পর নতুন খেলার খোঁজে বন্দুক হাতে নিয়েছিলেন। দু’জনের শুরুর গল্প আলাদা হলেও গন্তব্য এক। কঠোর পরিশ্রম আর একের পর এক সাফল্যের পর এবার এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে সোনা জিতলেন সুরুচি সিং ও কমলজিৎ। জাপানে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিশ্র দলগত ইভেন্টে ৪৮৪.৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে শেষ করেন তাঁরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার জুটির পয়েন্ট ছিল ৪৭৮.০। অর্থাৎ ৬.৬ পয়েন্টের ব্যবধানে সোনা নিশ্চিত করে ভারতীয় জুটি।
সুরুচি সিংয়ের শুটিং জীবন শুরু হয়েছিল খুব অল্প বয়সে। হরিয়ানার ঝাঝরে জন্ম তাঁর। পরিবারের সঙ্গে কুস্তির সম্পর্ক থাকায় ছোটবেলায় সেই খেলাতেও আগ্রহ ছিল তাঁর। কিন্তু ১৩ বছর বয়সে শুটিং শুরু করার পর দ্রুত বুঝতে পারেন, এই খেলাতেই নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে চান। জুনিয়র পর্যায় থেকেই তাঁর পারফরম্যান্স নজর কাড়ে। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি।
২০২৫ সালে সুরুচির সাফল্য আরও বড় আকার নেয়। বুয়েনস আইরেস, লিমা ও মিউনিখে আয়োজিত বিশ্বকাপে পরপর ৩টি ব্যক্তিগত সোনা জেতেন তিনি। লিমায় মিশ্র দলগত ইভেন্টেও সোনা পান। বছরের শেষ দিকে দোহায় বিশ্বকাপের ফাইনালে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের ফাইনালে ২৪৫.১ পয়েন্ট করে জুনিয়র বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। ২০২৬ সালেও সেই ছন্দ ধরে রাখেন সুরুচি। মিউনিখে বিশ্বকাপে সোনা জেতার পাশাপাশি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে মিশ্র দলগত ইভেন্টে রুপো জেতেন তিনি।
কমলজিতের গল্পে রয়েছে লড়াইয়ের দিকটি আরও বেশি। রেওয়ারির সুলখা এলাকার বাসিন্দা কমলজিৎ ২০১৯ সালে শুটিং শুরু করেন। তার আগে অ্যাথলেটিক্সে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু চোটের কারণে সেই পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শুটিংকে বেছে নেন তিনি। মধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ায় প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য খরচ চালানো সহজ ছিল না। নিজের অনেক খরচ নিজেকেই সামলাতে হয়েছে। কঠিন সময়ে খেলাটি ছেড়ে দেওয়ার কথাও মনে হয়েছিল তাঁর। তবে বাবা-মায়ের পাশে থাকা তাঁকে লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করে।
২০২৩ সালে জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৫০ মিটার পিস্তলের জুনিয়র পুরুষ বিভাগে সোনা জিতে বড় মঞ্চে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন কমলজিৎ। পরে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ও ৫০ মিটার পিস্তল— দুই বিভাগেই সিনিয়র পর্যায়ে খেলতে শুরু করেন। সেই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সুরুচির সঙ্গে জুটি বেঁধে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলেন তিনি। তাঁদের সাফল্য শুধু একটি পদক নয়, বরং দুই তরুণ শুটারের আলাদা লড়াই ও একসঙ্গে বড় মঞ্চে পৌঁছে যাওয়ার গল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + seven =