ঐতিহাসিক সোনা জয়ের পর পুরস্কার নিয়ে বিতর্কে ভারতের জুডোকা অস্মিতা 

কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে জুডোয় প্রথম সোনা জিতে নজির গড়েছেন অস্মিতা দে। গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগের ফাইনালে কানাডার হেইডি কোয়াচকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়ার এই লড়াই ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ম্যাচের শুরুতে অস্মিতা ছন্দে ছিলেন না। প্রতিপক্ষের কাছে ইউকো হারানোর পাশাপাশি একটি পেনাল্টিও পেয়ে পিছিয়ে পড়েন। কিন্তু সময় যত এগিয়েছে, ততই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন ভারতীয় জুডোকা। ধারাবাহিক আক্রমণে ম্যাচে সমতা ফেরানোর পর নির্ধারিত সময় শেষ হয় সমান অবস্থায়। ফলে ফল নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় গোল্ডেন স্কোরে। সেখানেই নিজের সেরাটা তুলে ধরেন অস্মিতা। অতিরিক্ত সময়ে সফল আক্রমণ থেকে ইউকো আদায় করে নিশ্চিত করেন সোনার পদক। ভারতের জুডো ইতিহাসে এই সাফল্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কঠিন লড়াইয়ে মানসিক দৃঢ়তা এবং শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মনোভাবই তাকে এনে দিয়েছে এই অসাধারণ অর্জন।
তবে মাঠের সাফল্যের পর প্রশাসনিক এক প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। উত্তরপ্রদেশ সরকার কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ীদের জন্য ১.৫ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। কিন্তু অস্মিতা সেই পুরস্কারের জন্য যোগ্য কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। অস্মিতার জন্ম ত্রিপুরায় হলেও তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়া ২০২৩ সাল থেকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু ২০২৪ সালের সরকারি নীতিতে পুরস্কার পাওয়ার জন্য স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া, স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত ২ বছর পড়াশোনা করা এবং রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার মতো একাধিক শর্ত রয়েছে।
এই নিয়মের আলোকে অস্মিতার আবেদন কীভাবে বিবেচিত হবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। উত্তরপ্রদেশের ক্রীড়া দফতর জানিয়েছে, কমনওয়েলথ গেমসের সব পদকজয়ী ও অংশগ্রহণকারীর তালিকা যাচাইয়ের কাজ চলছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই অস্মিতা দে রাজ্যের ঘোষিত ১.৫ কোটি টাকার পুরস্কার পাবেন কি না, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − eighteen =