বুধবারের ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে বোলারদের জন্য কিছুই সহজ ছিল না। ব্যাট হাতে দুই দলের খেলোয়াড়রাই দাপট দেখিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ব্যাটার সেঞ্চুরি করেছেন। ভারতের দুই ওপেনারও শতরান করেছেন। তাঁদের মধ্যে শুভমান গিল আবার দ্বিশতরান করেছেন। ফলে এক দিনের ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে নতুন নজির। ১০০ ওভারের ম্যাচে ৫ জন ব্যাটারের সেঞ্চুরি দেখা গিয়েছে। গিলের দ্বিশতরান ধরলে শতরানের সংখ্যা আরও বেশি। এমন ব্যাটিংয়ের রাতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে ভারত।
এক দিনের ক্রিকেটে এক ম্যাচে ৪টি সেঞ্চুরি হওয়ার নজির রয়েছে। ২৮ বছর আগে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে এমন ঘটনা ঘটেছিল। সেটিই এত দিন এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির নজির ছিল। পরে আরও দু’বার এমন ম্যাচ দেখা গিয়েছে। কিন্তু বুধবার সেই সংখ্যাও পেরিয়ে গেল। ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা মিলে ৫টি সেঞ্চুরি করে ফেললেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসেই ম্যাচের রং বদলে যায়। জন ক্যাম্পবেল, শেই হোপ এবং আমির জাঙ্গু তিনজনই শতরান করেন। তাঁদের ব্যাটে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৫ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড় করায়। এমন রান তাড়া করতে নামার আগে ভারতীয় সমর্থকদের চিন্তা থাকতেই পারত। কিন্তু শুভমান গিল ও রোহিত শর্মা সেই চিন্তা বেশিক্ষণ থাকতে দেননি।
ইনিংসের শুরুতে অবশ্য দুই ওপেনার ধীরে খেলছিলেন। পরিস্থিতি বুঝে নেওয়ার পর দু’জনেই গতি বাড়ান। এরপর মাঠে শুরু হয় রানের উৎসব। গিল নিজের ইনিংসকে নিয়ে যান দ্বিশতরান পর্যন্ত। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল আত্মবিশ্বাস। বড় লক্ষ্যও তখন ভারতের কাছে সহজ বলে মনে হতে থাকে।
গিলের এমন ব্যাটিং বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বড় ম্যাচে ওপেনারের কাছ থেকে এমন ইনিংস দলকে বাড়তি শক্তি দেয়। বুধবার তিনি সেটাই করে দেখিয়েছেন।
অন্য দিকে রোহিত শর্মাও বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁর ব্যাট এখনও কথা বলে। কয়েক মাস ধরে তাঁর অবসর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু মাঠে তিনি সেই সব কথার জবাব দিচ্ছেন রান করে। লর্ডসের মাঠে সেঞ্চুরির পর এবারও শতরান করলেন। এই ম্যাচেই এক দিনের ক্রিকেটে ১২ হাজার রান পূর্ণ করেছেন তিনি। সর্বকালের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় উঠে এসেছেন প্রথম ৭ জনের মধ্যে।
ফলে বুধবারের ম্যাচে শুধু ভারত জেতেনি। একসঙ্গে একাধিক নজিরও তৈরি হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় রান, পাঁচ ব্যাটারের সেঞ্চুরি এবং গিলের দ্বিশতরান ম্যাচটিকে আলাদা করে দিয়েছে। আর রোহিত ও গিলের ব্যাটে রান থাকায় বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন করে আশাও তৈরি হয়েছে।

