নয়াদিল্লি : ভবিষ্যতের প্রযুক্তি গ্রহণ, সাহসী উদ্ভাবন এবং নতুন প্রযুক্তি নির্মাণে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে। মঙ্গলবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ‘ইমার্জিং সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন কনক্লেভ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম প্রচেষ্টাতেই ভারত মঙ্গল গ্রহে পৌঁছেছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতেও পৌঁছেছে দেশ। এই সাফল্য ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতার পরিচয় বহন করে। তাঁর কথায়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিকে গ্রহণ করার পাশাপাশি সাহসের সঙ্গে নতুন উদ্ভাবন করতে হবে এবং প্রযুক্তি নির্মাণের ক্ষেত্রেও বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে হবে ভারতকে।
গত এক বছরে দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলতে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক শক্তির প্রয়োজন হবে। কিন্তু পারমাণবিক জ্বালানির জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীলতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই ভারত দ্রুতগতিতে ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছে।
তিনি জানান, কয়েক মাস আগেই দেশের ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর প্রথম ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে। জ্বালানি নিরাপত্তা হোক কিংবা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা— ভারতের লক্ষ্য কেবল নিজের প্রয়োজন মেটানো নয়। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশের সক্ষমতা আরও বাড়ানোও সরকারের উদ্দেশ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও চলতি বছরে ভারত নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে বলে উল্লেখ করেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রকেট ব্যবহার করে প্রথম প্রচেষ্টাতেই সফলভাবে উপগ্রহকে কক্ষপথে স্থাপন করেছে। পাশাপাশি উপগ্রহের ডকিং প্রযুক্তিতেও সক্ষমতা অর্জন করেছে ভারত। বর্তমানে দেশের একাধিক স্টার্টআপ মহাকাশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি উদ্ভাবনের পরিসর আরও বিস্তৃত করতে হবে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নির্মাণে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করাই দেশের লক্ষ্য।

