বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে ম্যাচের আগে তৈরি হয়েছিল প্রবল কৌতূহল। দিল্লিতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে কি তাঁকে ফেরানো হবে, সেই প্রশ্নই ঘুরছিল সমর্থকদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত তরুণ ক্রিকেটারকে বাইরে রেখেই সঞ্জু স্যামসনকে আরও একটি সুযোগ দিল ভারতীয় দল। আর সেই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে সমালোচকদের জবাব দিলেন সঞ্জু। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিন ম্যাচের সিরিজ নিজেদের করে নিল ভারত।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল আফগানিস্তান। রহমানউল্লাহ গুরবাজ শূন্য রানেই ফিরে যান। ইব্রাহিম জাদরান ৩৩ বলে ৩৭ রান করলেও ইনিংসে ছিল না প্রয়োজনীয় গতি। আফগানিস্তানের মিডল অর্ডারও ভারতীয় বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। একসময় মাত্র ১০০ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে তারা।
সেখান থেকে রশিদ খান ও নবি দলের রান কিছুটা সামলে নেন। রশিদ ১৬ বলে ২৮ রান করেন, নবি করেন ১৪ বলে ২০ রান। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান তোলে আফগানিস্তান। ভারতের হয়ে নীতীশ কুমার রেড্ডি ৩টি উইকেট নেন।
জবাবে শুরু থেকেই আফগান বোলিংকে আক্রমণ করেন ভারতের দুই ওপেনার। সঞ্জু স্যামসন মাত্র ২২ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে দ্রুত রান এবং বড় শটের ঝড়। এই ইনিংসের সুবাদে টি-টোয়েন্টিতে ওপেনার হিসেবে ১ হাজার রানও পূর্ণ করেন তিনি। এই কৃতিত্ব অর্জন করা ভারতীয়দের তালিকায় রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান ও বীরেন্দ্র সেহওয়াগের পর জায়গা করে নিলেন সঞ্জু।
অন্যদিকে অভিষেক শর্মা ১৯ বলে ৩৯ রান করে দলকে দ্রুত এগিয়ে দেন। মাত্র ৭.১ ওভারেই ভারতের রান ১০০ পেরিয়ে যায়। পরে রশিদ খান ৩ উইকেট নিয়ে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও ভারতের জয় আটকাতে পারেননি। মাত্র ১৪.৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে রশিদ ৩টি উইকেট নেন। দিল্লির এই দাপুটে জয়ে বৈভবকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও আপাতত জোরাল জবাব দিয়ে গেলেন সঞ্জু।

