পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বন্দিদশা নিয়ে এবার সরব হলেন অস্ট্রেলিয়ার ৭ ক্রিকেট অধিনায়ক। আদিয়ালা কারাগারে তাঁর সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের ওপর কূটনৈতিকভাবে চাপ দেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। দেশটির বিদেশমন্ত্রী পেনি ওংকে পাঠানো চিঠিতে ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর এবং স্টিভ ওয়া। তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, ইমরানের বিরুদ্ধে চলা কোনও আইনি বা রাজনৈতিক মামলায় তাঁরা অবস্থান নিচ্ছেন না। সেই বিষয় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বলেই তাঁরা মনে করেন। তাঁদের মূল বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শ যাই হোক, একজন বন্দির সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
ইমরানের ক্রিকেটীয় অবদানের কথাও চিঠিতে তুলে ধরেছেন তাঁরা। পাকিস্তানকে একমাত্র বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক হিসেবে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যানসার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অবদানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেগ চ্যাপেল ইমরানের পরিস্থিতি নিয়ে পেনি ওংয়ের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে চেয়েছেন। ২০২২ সালে ইসলামাবাদে শেষবার ইমরানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তখন ইমরানকে সুস্থ, শক্তিশালী ও কর্মচঞ্চল অবস্থায় দেখেছিলেন তিনি। বর্তমানে তাঁর বন্দিদশা নিয়ে যে প্রতিবেদন সামনে আসছে, তার সঙ্গে সেই সময়ের ইমরানের অবস্থার বড় পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করছেন চ্যাপেল।
ইমরানের ছেলে ও পরিবারের সদস্যেরা তাঁর স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং কারাগারে থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসা সুবিধা সীমিত, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত এবং আইনি পরামর্শ পাওয়ার সুযোগও পর্যাপ্ত নয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক আশঙ্কার কথাই জানিয়েছেন গ্রেগ চ্যাপেল। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা আশঙ্কা করছেন ইমরান কারাগারেই মারা যেতে পারেন। এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়কেরাও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। এবার অস্ট্রেলিয়ার ৭ প্রাক্তন অধিনায়কের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পেল।

