প্লে-অফের দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল গুজরাত টাইটান্স। মঙ্গলবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৮২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শুধু গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্টই নয়, কার্যত শেষ চারের টিকিটের দিকেও অনেকটা এগিয়ে গেল শুভমন গিলের দল। এই জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে গুজরাত। নেট রান রেটও যথেষ্ট ভালো হওয়ায় পরের দুটি ম্যাচের মধ্যে একটি জিতলেই প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যাবে। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না গুজরাটের জন্য। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতে বড় রান তুলতে ব্যর্থ হন ব্যাটাররা। শুরু থেকেই চাপে ফেলেন সানরাইজার্সের তরুণ পেসাররা। মাত্র ৩৪ রানের মধ্যেই ফিরে যান অধিনায়ক শুভমন গিল ও জস বাটলার। দু’জনেই হতাশ করেন। নিশান্ত সিন্ধুও ভালো শুরুর পর বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।চাপের মুখে গুজরাটকে ম্যাচে ফেরান সাই সুদর্শন। দারুণ ধৈর্য নিয়ে ব্যাট করে তিনি ৬১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটন সুন্দরও মিডল অর্ডারে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। দু’জনের মধ্যে গড়ে ওঠা গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গুজরাটকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেয়। শেষ দিকে ওয়াশিংটনের ঝোড়ো ব্যাটিং দলের স্কোরকে বাড়তি গতি দেয়। তিনি অর্ধশতরান পূর্ণ করে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৮ রান তোলে গুজরাত।
এই লক্ষ্য টি-টোয়েন্টির বিচারে খুব বড় না হলেও গুজরাটের বোলাররা শুরু থেকেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। সানরাইজার্সের ওপেনিং জুটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ট্রাভিস হেড খাতা না খুলেই ফিরে যান। অন্যদিকে অভিষেক শর্মাও বড় রান করতে পারেননি। শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় হায়দরাবাদ। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সানরাইজার্স। গুজরাটের পেস আক্রমণের সামনে একেবারেই অসহায় দেখায় ব্যাটারদের। কাগিসো রাবাডা এবং জেসন হোল্ডার দুরন্ত বোলিং করে তিনটি করে উইকেট তুলে নেন। তাঁদের গতি ও বাউন্স সামলাতে গিয়ে বারবার ভুল করেন প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা। স্পিনাররাও চাপে রাখেন রান তোলার গতি। ফলে মাত্র ৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় সানরাইজার্সের ইনিংস। ব্যাটিং ও বোলিং— দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে বড় জয় তুলে নেয় গুজরাট। এই হার হায়দরাবাদের প্লে-অফের সম্ভাবনাকে কঠিন করে তুলল। এখন শেষ দুটি ম্যাচে জিততেই হবে তাদের। অন্যদিকে গুজরাট অনেকটাই নিশ্চিন্ত অবস্থানে পৌঁছে গেল। শুভমন গিলের নেতৃত্বে দল যে এ বার শিরোপার অন্যতম দাবিদার, এই ম্যাচ তার আরও একবার প্রমাণ দিল।

