ইতালির  কোচ হতে পারেন গুয়ার্দিওয়ালা

ইতালির ফুটবলে নতুন যুগ শুরু করার লক্ষ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। স্পেনের কিংবদন্তি কোচ পেপ গুয়ার্দিওয়ালাকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য বিশেষ আর্থিক ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর এবার পুরো ফুটবল কাঠামো বদলে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাইছে তারা। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্তারা পেপ গুয়ার্দিওয়ালার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পাওলো মালদিনি এবং তাঁর পরামর্শদাতা লিওনার্দো সম্প্রতি বার্সেলোনায় গুয়ার্দিওয়ালার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে শুধু জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নয়, দেশের পুরো ফুটবল ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
গুয়ার্দিওয়ালাকে দলে আনতে বর্তমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। ফেডারেশনের সভাপতি জিওভান্নি মালাগো আর্থিক সমস্যার কথা স্বীকার করলেও জানিয়েছেন, বড় কোনও নিয়োগের জন্য ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
মালাগো বলেন, স্বল্প ও মাঝারি মেয়াদে খরচ কমানোর প্রয়োজন রয়েছে। তবে এমন কিছু বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, গুয়ার্দিওয়ালার মতো বড় নামকে পেতে ইতালি আর্থিক ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত।
ইতালির প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন গুয়ারদিওলা। ‘আজুরো প্রকল্প’ নামে একটি বড় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের ফুটবলকে তৃণমূল স্তর থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত নতুনভাবে সাজানোর লক্ষ্য রয়েছে। জানা গিয়েছে, গুয়ার্দিওয়ালা পুরো পরিকল্পনাটি মন দিয়ে শুনেছেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছেন।
বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ব্যর্থ হওয়ার পর ইতালির ফুটবলে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এর আগেও টানা তিনবার বিশ্বকাপে না খেলার হতাশা কাটাতে এবার নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে রয়েছে ফেডারেশন।
ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ১০ বছরের সম্পর্ক শেষ করার পর চলতি বছরে গুয়ার্দিওয়ালা নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে তিনি ২০টি বড় ট্রফি জিতেছেন। তাঁর অধীনে ম্যানচেস্টার সিটি ৬টি প্রিমিয়ার লিগ খেতাব জেতে, ২০২২-২৩ মরসুমে ঐতিহাসিক ট্রেবল জয় করে এবং ২০১৭-১৮ মরসুমে ১০০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শেষ করার নজির গড়ে।
গুয়ার্দিওয়ালার জয়ের হার ছিল ৭০.৮ শতাংশ। এবার ক্লাব ফুটবলের সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতালির মতো ঐতিহ্যশালী দলের দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight + three =