গিলবাহিনীর দাপট অব্যাহত! গল টেস্টে রানের পাহাড়ে চাপা পড়ল শ্রীলঙ্কা

গল টেস্টের দ্বিতীয় দিনেও ভারতের ব্যাটারদের দাপট অব্যাহত থাকল। প্রথম দিনের শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আরও বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে গেল শুভমান গিলের দল। বৃষ্টির কারণে দিনের বেশ কিছুটা সময় নষ্ট হলেও ভারতের ব্যাটিংয়ে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। দেবদত্ত পাড়িক্কলের দুরন্ত সেঞ্চুরি, কেএল রাহুলের দায়িত্বশীল ইনিংস এবং ধ্রুব জুরেলের কার্যকর অর্ধশতরানের সৌজন্যে দিনের শেষে ভারত ৯ উইকেটে ৪৬০ রান তুলে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলে দিয়েছে।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। ওপেনিং জুটিতে যশস্বী জয়সওয়াল ও কেএল রাহুল দলকে আত্মবিশ্বাসী সূচনা এনে দেন। যদিও ৩২ রানের মাথায় ভুল বোঝাবুঝির ফলে রান আউট হয়ে ফিরে যান যশস্বী। এরপর ক্রিজে আসেন দেবদত্ত পাড়িক্কল, যিনি রাহুলের সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি গড়ে ভারতের ইনিংসকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করান।
সাই সুদর্শনের চোটের কারণে এই ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন দেবদত্ত। সেই সুযোগ তিনি দুই হাত ভরে কাজে লাগিয়েছেন। প্রথম দিনেই শতরান পূর্ণ করার পর দ্বিতীয় দিনে আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। বৃষ্টির জন্য ওভার কম হওয়ায় দ্রুত রান তোলার দিকেই নজর দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৬৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে আউট হন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও একটি ছক্কা। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিন নম্বর ব্যাটিং পজিশনের দাবিদার হিসেবে নিজেকে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেন তিনি।
প্রথম দিনের শেষে চোটের কারণে রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া কেএল রাহুল দ্বিতীয় দিনে আবার ব্যাট করতে নেমে নিজের ইনিংসকে বড় করতে পারেননি। তবুও ৮২ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে দলের বড় সংগ্রহ গড়ার ভিত্তি আরও মজবুত করেন। অপরদিকে ঋষভ পন্থ শুরুটা ভালো করলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। ৩৯ রান করে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারান। রবীন্দ্র জাদেজাও প্রত্যাশামতো রান করতে পারেননি এবং মাত্র ১৩ রানেই সাজঘরে ফেরেন।
মধ্যক্রমে আবারও নিজের নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ দেন ধ্রুব জুরেল। তাঁকে নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি নির্বাচকদের আস্থা ধরে রেখেছেন। মাত্র ৬৮ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে তিনি ভারতের রান দ্রুত বাড়িয়ে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। শেষ দিকে মানব সুথারও ২৪ রানের কার্যকর অবদান রাখেন, যা ভারতের মোট স্কোরকে আরও শক্তিশালী করে।
শ্রীলঙ্কার বোলাররা মাঝেমধ্যে উইকেট পেলেও ভারতীয় ব্যাটারদের উপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। বাঁহাতি স্পিনার প্রভাত জয়সুরিয়া সবচেয়ে সফল বোলার হিসেবে ১০৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। তবে অন্য বোলাররা ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হওয়ায় ভারত সহজেই বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে যায়।
দিনের শেষে ভারতের স্কোর ৪৬০ রান হওয়ার পর একটি প্রশ্ন উঠছে দ্বিতীয় দিনেই কি ইনিংস ঘোষণা করা উচিত ছিল? বৃষ্টির কারণে খেলার সময় নষ্ট হওয়ায় শেষ বিকেলে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাট করতে পাঠালে ভারতীয় বোলাররা নতুন বলে কিছুটা সুবিধা পেতে পারতেন। বিশেষ করে গলের উইকেটে দিনের শেষভাগে ব্যাট করা সহজ নয়। তবে ভারতীয় দল সম্ভবত আরও বড় লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ চাপে ফেলতেই তৃতীয় দিনের শুরু পর্যন্ত ব্যাট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ভারতের লক্ষ্য একটাই জয়। তাই তৃতীয় দিনের শুরুতে দ্রুত কয়েকটি রান যোগ করে ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কাকে যত দ্রুত সম্ভব অলআউট করার দিকেই নজর থাকবে শুভমান গিলের দলের। আবহাওয়া অনিশ্চিত হলেও ভারতের বর্তমান অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী, আর এই ম্যাচে জয়ের ভিত তারা ইতিমধ্যেই অনেকটাই গড়ে ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + twelve =